বালক বেলায় নদীর কাছে গেলে নদী তাঁর ফেলে আসা পথের গল্প শোনাতো,পাহাড়ের কাছে গেলে পাহাড় শোনাতো তাঁর মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার কাহিনী, সবুজ মাঠ, ঝিলের জলে উড়ুক্কু গঙ্গা ফড়িং, বর্ণ বাহারী প্রজাপতি
এবং সবুজ অরণ্য বীথি দুচোখে সুনীল স্বপ্ন কাজল এঁকে দিত, আকাশে পেলব ডানা মেলে উড়ে যেত ঝাঁকে ঝাঁকে শঙ্খচিল,
দুঃখ পেলে সেইসব দিনে নদীর কাছে যেতাম, কষ্ট পেলে পাহাড়ের পায়ের কাছে এসে দাঁড়াতাম, ব্যথা পেলে পাতা ঝরার দিনে সবুজ অরণ্যে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বলতাম, আমার জন্য তোমরা একটা কিছু করো,
আমি ভালো নেই, আমি ভালো নেই, আমার পায়ের তলায় জমি নেই,
সেদিন পাহাড় নদী ও অরণ্য আমার পাশে এসে দাঁড়াতো,বলতো, এইতো আমরা তোর সঙ্গে আছি,
ইদানিং নদীর উপরে বিবর্ণ আকাশ দেখছি, প্রবল ধোঁয়াশাময় মেঘলা আকাশ, পাহাড় আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে, সবুজ বনানীতে বৃক্ষছেদন চলছে, অরণ্য উৎসব আজ দূর স্মৃতি,
চারদিকে বিবর্ণ জলছবি, শ্মশানে চিতার উপর উড়ে যাচ্ছে ঢাউস ঈগল, স্বপ্নের ছবিগুলো ভেঙে খান খান, বাতাসে ভাসছে বিষণ্ণতার হাওয়া,
চৌরাস্তার মোড়ে বিবর্ণ ক্যাকটাস গাছটির মতো আমি একলা গোধূলিবেলার অস্তরাগের ম্লান সূর্য হয়ে জেগে আছি,
একটু বাদে আকাশে চাঁদ উঠবে, তারায় তারায় ভরে যাবে রাতের আকাশ, তখন কি নক্ষত্রের মৃত্যু হবে,
রাতের আঁধার পেরিয়ে একসময় সকাল আসবে,
বিবর্ণ ক্যাকটাস আমি সেই সকালে নদী পাহাড় বনবীথির প্রাচীন লালিমা কি দেখতে পাবো,
পৃথিবী কবে আবার পুরনো চালচিত্র ফিরিয়ে দেবে,
অন্তহীন এই পথ চেয়ে থাকার নাম জীবন, নাকি মৃত্যু, বুঝে উঠতে পারছিনা।