যে মানুষের অনবরত দুখের সাথেই বসবাস
যে দুঃখকেই গিলে ফেলে খাবার হিসেবে
সে মানুষের ভাতের খিদা লাগে না—
কারণ তাদের ক্ষুধা পেটে নয়,
জন্ম নেয় হৃদয়ের গভীরতম অন্ধকারে।
তাদের বুকের ভেতর এমন এক শূন্যতা বাসা বাঁধে,
যেখানে হাজার রঙের পৃথিবীও একদিন ধূসর হয়ে যায়।
যে মানুষটা একসময় বৃষ্টিতে ভিজে গান গাইত,
সে-ই আজ জানালার পাশে বসে
বৃষ্টির শব্দে নিজের কান্না লুকিয়ে রাখে।
যে মানুষটা সবার হাসির কারণ ছিল,
সে-ই আজ নিজের হাসিটাকে
একটি নিখুঁত মুখোশের মতো পরে বেঁচে থাকে।
কষ্ট যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়,
তখন চোখের জলও বিদ্রোহ করা ছেড়ে দেয়।
কান্নাগুলো আর বাইরে আসে না,
রক্তের সঙ্গে মিশে
নীরবে হৃদয়ের প্রতিটি শিরায় ঘুরে বেড়ায়।
তখন ভাতের গন্ধ আর ক্ষুধা জাগায় না,
প্রিয় গান আর ভালো লাগে না,
প্রিয় মানুষগুলোর কণ্ঠও
দূরের কোনো অচেনা শব্দ হয়ে যায়।
রাত তখন সবচেয়ে নিষ্ঠুর সাক্ষী।
নিভে যাওয়া আলো, ভেজা বালিশ,
আর হাজারো না-বলা কথার মাঝে
একজন মানুষ প্রতিরাতে
নিজের ভাঙা আত্মাকে জোড়া লাগানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।
ভোর হয়, সূর্য ওঠে,
পৃথিবী ভাবে সে ভালো আছে—
কারণ সে আবারও হাসতে শিখেছে।
কেউ জানে না,
সেই হাসির প্রতিটি রেখার নিচে
একটি করে অসমাপ্ত মৃত্যু লুকিয়ে থাকে।
সবচেয়ে ভয়ংকর কান্না সেই কান্না,
যার কোনো শব্দ নেই।
সবচেয়ে বড় আর্তনাদ সেই আর্তনাদ,
যা বুকের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে
নিজের কাছেই ফিরে আসে।
দুঃখ গিলে ফেলা মানুষগুলো কখনো করুণা চায় না।
তারা শুধু চায়—
একজন মানুষ,
যে তাদের নীরবতা পড়তে পারবে,
চোখের ভাষা বুঝতে পারবে,
আর কোনো প্রশ্ন না করে
শুধু পাশে বসে থাকবে।
কারণ কিছু ব্যথা ভাষায় লেখা যায় না,
কিছু ক্ষত ওষুধে সারে না,
কিছু শূন্যতা সময়ও ভরাতে পারে না।
তবুও তারা বেঁচে থাকে—
অভ্যাসের মতো, দায়িত্বের মতো,
অথবা হয়তো কারও একটি হাসি বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
আর একদিন,
যখন পৃথিবী তাদের গল্প জানতে চাইবে,
তখন হয়তো তারা শুধু মৃদু হেসে বলবে—
“আমি ভালো আছি।”
আর সেই একটি বাক্যের আড়ালে
লুকিয়ে থাকবে
একটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া জীবনের ইতিহাস