তুমি কি জানো, আমি এক অনন্ত শান্ত সকাল?
যেখানে চোখ মেললেই অনুভব করবে
মহাবিশ্বের আদিমতম শীতলতা।
এক ফালি নরম বাতাস মৃদ্যু আঙুলে আলতো করে
ছুঁয়ে যাবে তোমার জানালার নীল কাপড়,
যেন কোনো চেনা স্পর্শের ইশারা।
তুমি কান পাতলে শুনবে—
সে তো শুধু পাখির কিচিরমিচির নয়,
ও যেন এক অন্ররের বন্দনা,
যার দুষ্টু-মিষ্টি কলকাকলিতে ভাঙবে
তোমার জাগতিক ঘুম।
প্রকৃতির এক নিস্তব্ধ, নীরব ও নিভৃত স্পর্শে
তোমার তৃষ্ণার্ত মন ভিজে উঠবে
ভোরের পাতায় জমে থাকা
নিঃশব্দ শিশির বিন্দুর মতো।
ভুজঙ্গ লতার বুনো রহস্যময় সবুজ আর টাইম রোজের রঙিন মায়া একাকার হয়ে বুনে চলে
এক চিরন্তন সৌন্দর্যের ক্যানভাস।
রাতের নিথর স্তব্ধতা ভেদ করে
প্রথম সোনা রোদ্দুর তোমার কপালে এসে পড়বে,
মনে হবে যেন যুগান্তরের সব ক্লান্তি ধুয়ে দিতে
যেন কেউ এক আঁজলা আলো উপহার দিল।
আমি সেই সকাল,
যে তোমার একাকীত্বের খাঁচায় এনে দেয়
এক বুক তাজা নিঃশ্বাস;
যেখানে কোনো কোলাহল নেই,
নেই কোনো হারানোর তাড়া।
প্রতিটি ভোরে আমি অবিনশ্বর এক শান্তি হয়ে
আসব তোমার দুয়ারে,
তোমার আত্মায় বুনে দিতে এক নতুন জীবন আর ভালোবাসার চিরন্তন গান।
তুমি এই রহস্যের পর্দা ভেদ করে পাবে
একটি শান্ত সকাল যেখানে চায়ের চুমুকে
আর কাঠের চেয়ারে বসে চশমা চোখে পেপার হাতে
শুধু আমারে দেখিবে একটি নিরব শান্ত সকালকে।
আমি তোমার আকুলতা ব্যাকুলতাকে থামিয়ে দেব
নিরব শান্ত সকালের চৌকোঠায়।
তুমি বারান্দা কিংবা বেলকুনিতে বসে
দেখতে পাবে উঠুনের কোনায় অথবা
তোমার চারিপাশে কৃষ্ণচূড়া জবা
বেলি হাসনাহেনা শাড়ি পরে ঘুরে।
আমি সেই শান্ত সকালের ফুলের মত মিষ্টি
আর বাকবাকুম পায়রা জোড়ার মতো
ভালোবাসার এক অভিনব প্রতিক ।