
Screenshot
স্টাফ রিপোর্টার, দেবিদ্বার (কুমিল্লা): বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহর আপসহীন স্পিরিট ও “মাথা নত না করার” বার্তা যেন মাঠে দেখাল কুমিল্লার দেবিদ্বারের তরুণরা। দেবিদ্বারের একটি সরকারি কলেজের সীমানার ভেতরে রাতের আঁধারে জায়গা দখল করে গড়ে তোলা একটি অবৈধ প্রাচীর একজোট হয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একদল সুযোগসন্ধানী ও অবৈধ দখলদার সরকারি কলেজের সীমানার ভেতরে ঢুকে অবৈধভাবে দেয়াল তোলার কাজ শুরু করে। রাতের অন্ধকারে কলেজের জায়গা দখল করার এই খবরটি ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কোনো প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার অপেক্ষা না করে, শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে পুরো অবৈধ প্রাচীরটি ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
নিজের অধিকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এটা আমাদের কলেজ। এখানে আমাদের হক, আমাদের অধিকার রয়েছে। রাতের আঁধারে বাইরের কেউ এসে আমাদের কলেজের গাছ কাটবে, জায়গা দখল করবে কিংবা অবৈধভাবে দেয়াল তুলে ক্যাম্পাসকে সংকুচিত করবে—এটা আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না।”
দেবিদ্বারের তরুণদের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় সচেতন মহলে এটি দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষ নিজের অধিকার রক্ষায় অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত, কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে তরুণ সমাজ প্রমাণ করেছে যে নিজের অধিকার রক্ষার লড়াইটা শেষ পর্যন্ত নিজেকেই করতে হয়।
শিক্ষার্থীদের এই সাহসী প্রতিরোধ বার্তা দিয়ে গেল যে, অন্যায়ের সামনে আর মাথা নত নয়, বরং যেখানেই অন্যায় হবে সেখানেই তরুণ সমাজ বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে এবং নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নেবে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাস এলাকায় শিক্ষার্থীদের এই জাগ্রত ভূমিকার কারণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও, দখলদার চক্র পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।