বসন্তে মোর মন জ্বলে বিরহে,
অজস্র বিফল বসন্ত ফেলে এসেছি ,
নিষ্ফলা বসন্ত আমারও দুয়ারে
কেনো আসে বারেবারে, বিরহের
আগুনে কাঁদাতে অশান্ত অন্তরে?
বহুদিন বহু মাস কতো যে বছর
পেরিয়ে বহে চলেছি শুধুই মরা বসন্ত!
আমি শান্ত মরানদী মতো,স্রোতহীন,
গতিহীন সদা আছি উচ্ছিষ্টসম!
যেনো ভাবলেশ,নিরানন্দে,গন্ধহীন,
শুকনো ফুলের পাপড়ির মতো।
বসন্তদিনের রঙিন ভূষণে,
এখন দোলা দেয় না মনে।
করে না ঘরের বাহির প্রিয়ার টানে!
বটতলার ঐ ছায়ানটের চারুকলায়
বাসন্তীদের ভিড়ে,বাউলের একতারার
সুরে আর ঢোল তালে মন নাহি দোলে!
প্রতিটি বসন্তে সুরেলা কুকিল কুহুতানে
সুরে সুরে ডাকে মোরে বলে চলো না
করি হাত-ধরাধরি ঘুরি কুঞ্জবনে তব মন
ভরে দেই কত-না সোহাগে আদরে।
বসন্ত এলে সে যে বলে ,ও গো বৈষ্ণবী,
এসো ঘর ছেড়ে মোর সনে। আবার নতুন
করে সেজেগুজে বাসন্তী ভিড়ে ,ভাষার
মাসে আজিকার বসন্তে দিনে।
বসন্ত এলেই মন কেঁদে উঠে,একটা
মরা বসন্ত ছুঁয়ে গেছে আমায়,জীবনের
বসন্ত চলে গেছে সেই কবে,অনেক আগে!
এখন বসন্তের গান শুনে মনের গহীনে
ধরে না প্রেমের তান! প্রিয়ার ডাকে বিদগ্ধ
মনে উথলে ওঠে বিষাদের সাইরেন!
তবুও সে বলে,ও গো প্রেয়সী এসো মোর
সাথে গগনে বহিছে অতৃপ্ত ফাগুনের
আগুন পোড়ে যাক সব দঃখ! মৃদু হেসে
অশান্তির দহনে কেঁদে যায় মোর মন!
এই বসন্ত বন্দনা হৃদয় গহীনে ছিঁড়িতে
পারে না কঠিন বাঁধন! আজ পুজিতে
মনের স্বাদ করি নব সাজ গাহিতে বসন্তের
গান ; যদিও হবে মোর কলিজার বিরান।
ব্যথাহত রোদনভরা শুধাইলে গহিনের তান
পুরোনো রাগিণী ভরা বিরহের অভিমান!
শুনি ভোমর তাড়ানোর মধুমাখা গীত গান,
আমি চাহি গো পেতে তব সপিয়া মনপ্রাণ।