হৃদয়েরও মৃত্যু হয়, শরীরের মৃত্যুতে পুনরুত্থান হয় না, হৃদয়ের পুনরুত্থান হয়। আমি যাদের মনে করি আমার মানুসিক অশান্তির কারন! আমি খুব যত্ন করে কৌশলে তাদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেই। যদি সে আমার সবচাইতে কাছের মানুষটিও হয়, আমি তাঁকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে প্রস্তুত নই। কথাগুলো খুব স্বার্থপর এর মতো হলেও, আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল।
শরীরের মৃত্যু একবারই হয়, হৃদয়ের মৃত্যু হয় বারবার। হৃদয়ের যত্ন করতে হয়, বেঁচে থেকেও মৃত থাকার চাইতে একটু না হয় স্বার্থপর হলাম। যাঁরা আপনাকে খুব যত্ন করে মানুসিক আঘাত করবে, এই মানুষগুলো ভীষণ ভয়ংকর হয়, এদের সান্নিধ্যে থাকার চাইতে একাকী থাকা উত্তম। একা থাকা মানে এই নয়, দায়িত্ব কর্ত্যব্য থেকে সরে যাওয়া, না নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবো আজীবন, সে আমি যেখানেই থাকি, যেভাবেই থাকি না কেনো।
একটাই তো জীবন, বেঁচে আছি ঠিক কতক্ষণ কেউ জানি না, যে জীবনের স্থায়ীত্ব নেই, সে জীবন নিয়ে এখন আর কৌতুহল হয় না। শুধু এটুকুই চাওয়া, বাঁচার মতো বাঁচি, যতদিন বাঁচি। আত্মসম্মান নিয়ে যেনো বাঁচি। কখনও কখনও নিজের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতে চুপ থাকতে জানতে হয়, কখনও বা স্থান পরিবর্তন করতে হয়, কখনও আওয়াজ তুলতে হয় অগ্নি কন্ঠে। বর্তমান সমাজে চুপ থাকাটাকেও দূর্বলতা মনে করে। তাই মাঝে মাঝে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তোলা ভীষণ জরুরী।
জীবন ক্ষনস্থায়ী হলেও, কর্ম ক্ষনস্থায়ী নয়। জীবন মানেই মৃত্যু। কর্মের মৃত্যু নেই, যদি কর্ম হয় সত্য সুন্দর। প্রতিটি মানুষকে এমন কিছু কর্ম করে যাওয়া উচিৎ যা তাঁর মৃত্যুর পরেও তাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, জীবনের যখন পুনরুত্থান নেই, তবে কর্মের পুনরুত্থান কি জরুরী? উত্তর একটাই, মানুষের ইহকাল পরকাল সবটাই কর্মের উপর নির্ভর, অবশ্যই তা হতে সৎ কর্ম। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়,শুধু বদলে যায় সময়টুকু। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়, মানুষই ইতিহাসের বাহক, মহাকালের রচিয়তা।
জীবন মানেই মৃত্যু, কর্মের মৃত্যু নেই।