1. admin@mannanpresstv.com : admin :
রুনা লায়লার গান ভাষার সীমানা মানে না - অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন - মান্নান প্রেস টিভি
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন

রুনা লায়লার গান ভাষার সীমানা মানে না — অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন

এম.এ.মান্নান.মান্না:
  • Update Time : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ Time View

১৯৮৭ সাল। দেশজুড়ে বন্যা। টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ডুবেছে, ফসল নষ্ট, মানুষ আশ্রয়হীন। সেই দুর্যোগে সংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা চুপ করে বসে থাকেনি। ফুটবল খেলা, ক্রিকেট ম্যাচ, নাটক আর গানের কনসার্ট করে টাকা তুলে বন্যার্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তেমনই এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে উঠেছিলেন কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। দৈনিক বাংলারবাণী ও সাপ্তাহিক সিনেমার পক্ষ থেকে আমি সেখানে গিয়েছিলাম ছবি তুলতে। মঞ্চের আলোয় তাঁর হাসি, গানের সঙ্গে দর্শকের কণ্ঠ মেলানো, সেই ছবিগুলো পরের সপ্তাহে সাপ্তাহিক সিনেমার প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছিল। সাপ্তাহিক মেঘনার প্রচ্ছদেও একই অনুষ্ঠানের আমার তোলা ছবি গিয়েছিল। সেদিন বুঝেছিলাম, রুনা লায়লা শুধু গান গান না, মানুষের পাশে দাঁড়ানও। এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিভিন্ন রেকর্ডিং স্টুডিও, বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠানে তাঁর সরব উপস্থিতি আজও অম্লান।

চল্লিশ বছর পর, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই শুক্রবার, আবার তাঁকে দেখলাম একই রকম উজ্জ্বল। এবার জায়গা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন। দৈনিক ঢাকার ডাকের পক্ষ থেকে গিয়েছিলাম কভার করতে। ৭টার একটু পর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে মঞ্চে উঠতেই ৭০ আসনের মিলনায়তন দাঁড়িয়ে করতালি দিল। শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে মন্ত্রী তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিলেন। রুনা লায়লা মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বললেন, “অনেক বছর পরে হলেও এ ধরনের আয়োজনের জন্য শিল্পকলা একাডেমিকে সাধুবাদ জানাই। ভালো লাগছে যে আপনারা একটা ভালো কাজে এগিয়ে এসেছেন। আমরা সবাই যেন দেশকে ভালোবেসে কাজ করি।” তাঁর গলায় তখনও সেই একই আন্তরিকতা। ৬২ বছরের পেশাদার জীবনে দেশ-বিদেশের বড় বড় মঞ্চে গেয়েছেন, কিন্তু শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে এটাই ছিল তাঁর প্রথম একক কনসার্ট।

আমার স্মৃতি তখন পেছনে চলে গেল ১৯৮৪ সালে। তখন আমি থাকি ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পাশে। একদিন সকালে পাশের বাড়ির দারোয়ান এসে বলল, বাড়ির মালিক আমাকে ডাকছেন। তারা জেনে গেছে আমি পত্রিকায় কাজ করি। ড্রইংরুমে বসার পর নাস্তা এল। কিছুক্ষণ পর রুনা লায়লা নিজেই সামনে এসে বসলেন। অনেক গল্প করলেন। গানের কথা, সফরের কথা, দেশের কথা। এরপর আরেকবার ফটোসাংবাদিক শামসুল ইসলাম আলমাজির সঙ্গে গিয়েছিলাম তাঁর ছবি তুলতে। সেই সময় থেকেই দেখে আসছি, মঞ্চের বাইরেও তিনি কত সহজ, কত মাটির মানুষ।

২৪ জুলাই ২০২৬ এর সেই সন্ধ্যাটি শুধু কনসার্ট ছিল না। এটি ছিল বাংলা গানের ছয় দশকের গৌরব উদযাপন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে “শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব” শিরোনামে এই একক অনুষ্ঠানের সব টিকিটের অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় দেওয়া হবে বলে আয়োজকরা জানান। উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা, নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন। গানের আগে দুটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। একটিতে বাপ্পা মজুমদার, ফোয়াদ নাসের, নায়ক আলমগীর, ইমরান মাহমুদুল, আঁখি আলমগীররা স্মৃতিচারণ করেন। আরেকটিতে রুনা লায়লা নিজেই তাঁর দীর্ঘ পথচলার কথা বলেন।

প্রথম গান হিসেবে তিনি বেছে নিলেন দেশাত্মবোধক “দেশের জন্য যারা দিয়ে গেছো প্রাণ”। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাইতে গাইতে পুরো হল নীরব। গান শেষে দীর্ঘ করতালি। এরপর একে একে এলেন “শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব”, “যখন থামবে কোলাহল”, “গানেরই খাতায় স্বরলিপি”, “যে জন প্রেমের ভাব জানে না”, “আমায় গেঁথে দাও না”, “বন্ধু তিন দিন”, “অনেক বৃষ্টি ঝরে তুমি এলে”, “সাধের লাউ”, নজরুলের “ভুলিতে পারি না তাই আসিয়াছি পথ ভুলি” এবং সবার অনুরোধে “দমাদম মাস্ত কালান্দার”। প্রায় দেড় ঘণ্টা। আধুনিক, লোক, চলচ্চিত্র, নজরুল—সব ধারাতেই তাঁর কণ্ঠে বয়সের ছাপ নেই। ৭৪ বছর বয়সেও তিনি লাইভ গাইতে ভালোবাসেন। মাঝে আফজাল হোসেনের সঙ্গে গল্পে বললেন, “রেকর্ড করা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলানো আমার ভালো লাগে না। আমি এখনও দর্শকের সামনে সরাসরি গাইতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।”

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে আফজাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি হ্যান্ডশেক করলেন। তারপর হাসতে হাসতে বললেন, “আমি কিন্তু সবার সঙ্গে হাত মেলাই না। আংটিগুলো আছে না, হুট করে কেউ নিয়ে নিলে! তবে উনি নিরাপদ।” পুরো মিলনায়তন হেসে উঠল। হীরার আংটির সংগ্রহ নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল পুরনো। ১৫ বছর বয়সে মা আমিনা লায়লার কাছ থেকে পাওয়া প্রথম ডায়মন্ড আংটি দিয়েই শুরু।

আফজাল হোসেনও স্মৃতি বললেন। প্রায় ৪০ বছর আগের বিটিভির কথা। রিহার্সাল শেষে সিঁড়ি দিয়ে নামছেন, সামনে দিয়ে রুনা লায়লা যাচ্ছেন। তিনি বললেন, “আমরা তারকাখ্যাতির অনেক রূপ দেখেছি। সময়ের সঙ্গে দীপ্তি ম্লান হয়। কিন্তু রুনা লায়লা নিজেকে যেভাবে বিশেষ করে রেখেছেন, তিনি আজও আকাশের তারকা।”

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বললেন, “রুনা লায়লা সুরকে করেছেন সাধনা, আর সাধনাকে করেছেন জীবন। সৃষ্টি যখন সাধনায় দীপ্যমান হয়, তখন সেই শিল্পী আর কেবল ব্যক্তি থাকেন না; হয়ে ওঠেন এক অনন্ত সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।” প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সচিব কানিজ ফাতেমা, একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিনও বক্তব্য রাখেন।

এই সন্ধ্যার তাৎপর্য শুধু বিনোদন না। এটি প্রমাণ করে শিল্পী কীভাবে প্রজন্মের সেতু হতে পারেন। দর্শকের মধ্যে তরুণও ছিল, প্রবীণও ছিল। সবাই মোবাইলে ধারণ করেছে, কেউ কেউ গলা মিলিয়েছে। টিকিট প্রথম দিনেই শেষ। কারণ মানুষ শুধু গান শুনতে আসেনি, একটি ইতিহাসের অংশ হতে এসেছে।

এবার আসি রুনা লায়লার জীবন ও কর্মে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেটে। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী সরকারি কর্মকর্তা, মা আমিনা লায়লা ওরফে অনিতা সেন ছিলেন সংগীতশিল্পী। মামা সুবীর সেন ভারতের পরিচিত গায়ক। আড়াই বছর বয়সে বাবার বদলির কারণে পরিবার চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে। শৈশব কাটে লাহোরে। সেখানকার সাংস্কৃতিক পরিবেশেই তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি।

১৯৬৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে উর্দু চলচ্চিত্র “জুগনু”র “গুড়িয়াসি মুন্নি মেরি” গান দিয়ে প্লেব্যাক শুরু। এরপর নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে গান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালে জনপ্রিয় “জিয়া মহিউদ্দিন শো”তে গাইতেন। ১৯৭৪ সালে কলকাতায় রেকর্ড করলেন “সাধের লাউ”। একই বছর মুম্বাইয়ে প্রথম কনসার্ট। দিল্লিতে পরিচালক জয়দেবের সঙ্গে পরিচয়ের পর বলিউড ও দূরদর্শনে সুযোগ। কল্যাণজি-আনন্দজির সুরে “এক সে বাড়কার এক” ছবির গান রেকর্ডের সময় কিংবদন্তি লতা মুঙ্গেশকর তাঁকে আশীর্বাদ করেন। “ও মেরা বাবু চেল চাবিলা” আর “দমাদম মাস্ত কালান্দার” গেয়ে ভারতজুড়ে পরিচিতি পান। ভারত-পাকিস্তানে আজও এই গান বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। বাংলা চলচ্চিত্র, আধুনিক, পপ, লোক, গজল—সবখানেই সমান দক্ষতা। লোকসংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কিংবদন্তি দীনেন্দ্র চৌধুরীর কাছে। বাংলা, উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাতি, বেলুচি, পশতু, ফার্সি, আরবি, মালয়, নেপালি, জাপানি, স্প্যানিশ, ফরাসি, লাতিন ও ইংরেজি মিলিয়ে ১৮টি ভাষায় ১৩ হাজারের বেশি গান করেছেন। এই বৈচিত্র্যই তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার অনন্য শিল্পী করেছে।

চলচ্চিত্রেও ছিলেন। চাষী নজরুল ইসলামের “শিল্পী” ছবিতে নায়ক আলমগীরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। গল্পটি “দ্য বডিগার্ড” এর ছায়া অবলম্বনে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনবার বিয়ে। প্রথম খাজা জাভেদ কায়সার, দ্বিতীয় সুইস নাগরিক রন ড্যানিয়েল, ১৯৯৯ সাল থেকে আছেন অভিনেতা আলমগীরের সঙ্গে। একমাত্র কন্যা তানি লায়লা, দুই নাতি জাইন ও অ্যারন।

তাঁর ডিস্কোগ্রাফি বিশাল। “আই লাভ টু সিং ফর ইউ”, “সিনসিয়ারলি ইয়োরস রুনা লায়লা”, “গীত-গজলস”, “রুনা ইন পাকিস্তান”, “রুনা গোজ ডিসকো”, “সুপার রুনা”, “গঙ্গা আমার মা পদ্মা আমার মা”, “বাজম-এ-লায়লা”, “মুডস অ্যান্ড ইমোশনস”, “কালা শাহ কালা” ইত্যাদি। ২০১৬ সালে “আই লাভ মাই বাংলাদেশ” গানটি স্বাধীনতা দিবসে আলোড়ন তোলে। টেলিভিশনে তিনি “সারেগামাপা”, “সুরক্ষেত্র”, “সেরাকণ্ঠ”, “পাওয়ার ভয়েস”, “ক্ষুদে গানরাজ” সহ বহু অনুষ্ঠানের বিচারক ছিলেন।

পুরস্কারের তালিকাও দীর্ঘ। বাংলাদেশে স্বাধীনতা পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সাতবার, শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী—“দি রেইন” ১৯৭৬, “যাদুর বাঁশি” ১৯৭৭, “অ্যাক্সিডেন্ট” ১৯৮৯, “অন্তরে অন্তরে” ১৯৯৪, “তুমি আসবে বলে” ২০১২, “দেবদাস” ২০১৩, “প্রিয়া তুমি সুখী হও” ২০১৪। ২০১৭ সালে “একটি সিনেমার গল্প”র জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার। ট্রাব আজীবন সম্মাননা, জয়া আলোকিত নারী, ডেইলি স্টার-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জীবনের জয়গান, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০২। ভারতে সায়গল পুরস্কার, সংগীত মহাসম্মান ২০১৩, তুমি অনন্যা ২০১৩, দাদাসাহেব ফালকে ২০১৬, টেলিসিনে আজীবন ২০২২, মিনার-এ-দিল্লি ২০২৬। পাকিস্তানে নিগার ১৯৬৮ ও ১৯৭০, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েট দুইবার, জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক।

ভারতে তাঁর জনপ্রিয়তার কারণ তিনটি। এক, ভাষার দক্ষতা। হিন্দি-উর্দু উচ্চারণে কোনো কৃত্রিমতা নেই। দুই, সুরের বহুমাত্রিকতা। গজল, কাওয়ালি, পপ, ফোক সবই সমান স্বাচ্ছন্দ্যে। তিন, মঞ্চ উপস্থিতি। তিনি গানকে অভিনয়ের মতো করে উপস্থাপন করেন। “দমাদম মাস্ত কালান্দার” শুনলে মনে হয় সুফি দরবারে আছি। আবার “সাধের লাউ” শুনলে মনে হয় গ্রামবাংলার উঠোনে।

বাংলাদেশে তিনি “সুরসম্রাজ্ঞী”, “গানের রানি”। এখানে তাঁর গান মানে শৈশব, প্রেম, দেশপ্রেম। ভারতে তিনি “মেলোডির রানি”। সেখানে তাঁর গান মানে সীমান্ত পেরোনো সংস্কৃতি। দুই দেশেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, প্রশংসা হয়েছে, কিন্তু জনপ্রিয়তা কখনো কমেনি। কারণ তিনি নিজেকে বদলেছেন সময়ের সঙ্গে, কিন্তু শিকড় ভোলেননি।

২০২৬ এর শিল্পকলা একাডেমির কনসার্টে একটি বিষয় সবাইকে নাড়া দিয়েছে। ৬২ বছর পর নিজের দেশের রাষ্ট্রীয় মঞ্চে প্রথম একক। তিনি নিজেই বলেছেন, “অবশেষে ডেকেছে, এটাই তো বেশি।” এই বিনয়ই তাঁকে আলাদা করে। ৭৪ বছর বয়সেও গলায় তারুণ্য, হাঁটায় আত্মবিশ্বাস, কথায় রসবোধ।

আমি সাংবাদিক হিসেবে দেখেছি, শিল্পীরা অনেক সময় মঞ্চেই বড়, বাইরে ছোট। রুনা লায়লা উল্টো। মঞ্চে যেমন রাজকীয়, বাইরেও তেমন আন্তরিক। ১৯৮৭ এর বন্যার অনুষ্ঠান থেকে ২০২৬ এর বন্যা তহবিল কনসার্ট—চার দশকে তাঁর অবস্থান একই। মানুষের জন্য গান। তিনি স্টেজে উঠেই বিনয়ের সাথে স্টেজে হাত ছুঁয়ে মাথায় নেন। তাঁর এই ভক্তি দর্শকের চোখ এড়ায়না।

শেষ গান “দমাদম মাস্ত কালান্দার” যখন শেষ হলো রাত সোয়া ৯টায়, তখন দর্শক উঠে দাঁড়িয়েছে। কেউ কাঁদছে, কেউ হাততালি দিচ্ছে। কারণ সবাই জানে, এই কণ্ঠ সহজে আসে না। ছয় দশক মানে একটি জাতির স্মৃতি। রুনা লায়লা সেই স্মৃতির রক্ষক।

তাই বলতেই হয়, রুনা লায়লা শুধু বাংলাদেশের না, তিনি ভারতেরও। তিনি উপমহাদেশের। তাঁর গান ভাষার সীমানা মানে না, রাজনীতির সীমানা মানে না। যেখানে সুর আছে, সেখানেই রুনা লায়লা আছেন। আর যতদিন মানুষ গান ভালোবাসবে, ততদিন “শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাব” এই কথাটি বেঁচে থাকবে।

লেখকঃ পরিচালক অব), শ্রম অধিদপ্তর ও কলামিস্ট। ইমেইল : Khanakhtargangchil2000@gmail

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD