আমি ইনসান জন্মসূত্রে
নেই দ্বিধা, দ্বিমত তাতে
তবে হতে পারি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান
যাহা পড়ে ইনসানেরই মধ্যে।
বাঙালি, বাংলাদেশি নিয়ে আজ মতদ্বৈতা
সত্যিই নিকৃষ্টতার বহিঃপ্রকাশ
নয়তো মীমাংসিত বিষয় নিয়ে
হতো না তর্ক-বিতর্ক।
একাত্তরের পূর্বে এপার বাংলা আর ওপার বাংলা
মিলে ছিলো বাঙালি পরিচয়ে পরিচিত
যেহেতু বাংলা ভাষার টক্কর ছিল হিন্দি আর উর্দুর সাথে!
একাত্তরে আমরা পেলাম নিজেদের আইডেনটিটি
আমাদের ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ হিসাবে
যার জাতীয়তার পরিচয় বাংলাদেশি।
তাই প্রথম পরিচয় আমরা ইনসান
যার সাথে চলে না কোনো বিভাজন
বাংলাদেশ হবার পর আসে প্রশ্ন
আমরা বাঙালি নাকি বাংলাদেশি ?
এতো চড়াই উৎরাই পেরিয়ে যখন পেলাম বাংলাদেশ
যার জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাংলাদেশি
বলুনতো এখন বাঙালি বলা নিজেকে
নয় কি বেমানান ?
এখন বাঙালি মানে অস্বীকার করা
বহু রক্তে গড়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
যেখানে বিশ্বাসের অভাব দেখা দেয় বাংলাদেশ নিয়ে
বাঙালিরা আসলেই চেয়েছিলো কি বাংলাদেশ ?
আমার নাগরিকত্বের পরিচয় কাগজপত্রে
আমি একজন বাংলাদেশি
অথচ মুখে বলি এবং মনে ধারণ করি
আমি কে তুমি কে শ্লোগানে বাঙালি, বাঙালি
এটা নয় কি বাংলাদেশের সাথে বেঈমানি ?
তাই বলি ভাই
আমার প্রথম পরিচয় আমি ইনসান
আমার এখন দ্বিতীয় পরিচয় আমি বাংলাদেশি
কিছুতেই নয় বাঙালি!
কারণ কাগজপত্রে সারাবিশ্বে আমার পরিচয়
আমি বাংলাদেশি!।