1. admin@mannanpresstv.com : admin :
ছোট গলপ -ভালোবাসার  গল্প -জেবুন্নেছা  জেবু - মান্নান প্রেস টিভি
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

ছোট গলপ —-ভালোবাসার  গল্প —-জেবুন্নেছা  জেবু

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪
  • ১৯৭ Time View

পনের ষোলোটা  পাত্রী দেখানোর পর ও  কোন মেয়েই পছন্দ হয় না  রায়হানের,   মা বাবার মন রাখতেই  মূলতঃ পাত্রী  দেখা ….কিনতু  এভাবে আর  কতদিন নিজেই নিজের প্রতি  বিরক্ত সাথে মা বাবা ,  ভাই আত্বীয় স্বজনও  ।
      
   মা বলছিলো  রায়হান তোর যদি কোন মেয়ে  পছন্দ  থাকে তবে  বল  রায়হান  নিরুত্তর  , তার নীরবতা দেখে  তার ছোট ভাই  বল্লো  দেখো বড় ভাই  আর কতো  মেয়ে দেখবে বলো? আসলে  সমস্যা  কি তোমার?

কিছুই  না বলে চলে  গেলো  ….তারপর  রায়হানের  মা  বল্লো  দেখ  এভাবে  চুপচাপ  থাকলে তো হবে  না , তুই  সরকারী  ইঞ্জিনিয়ার  কোন কিছুরই  অভাব নেই তাহলে  কি সমস্যা  আমাকে  খুলে  বল  বাবা !
  রায়হান  বল্লো  আমাকে  একটু  সময়  দাও , আপাততঃ  বিয়ের  কথা  ভাবছি না । মা  বল্লো  বয়স  হলেই  তোর  উপযুক্ত মেয়েরা তোকে  পছন্দ করবে না ব্যাপার টা  ভেবেই  দেখ।
  
 রায়হান সপ্তাহে  দুইদিন   ছুটিতে  আসে নিজ বাড়িতে  এরপর  আবার  চলে যায় তার  কাজের  শহরে । ওখানেই  তার  সব ভালো লাগা ।    রায়হানের  মহিলা বস মিসেস  কণাকে  প্রথম  হতে ই  রায়হানের  খুবই পছন্দ । কণার  কথা চলাফেরা  সবই  তার  চোখে  অনন্য । তেমনই  রায়হানের  ভদ্রতা, ব্যবহার সব  কণার  দৃষ্টি  আকর্ষন করতো । একদিন বল্লো  আপনি  আমার  ছেলেকে  একটু  পড়ালে  খুবই  খুশী  হবো । কণা  দেখতে  মোটামুটি  সুন্দরী  রায়হানের  চোখে  কণা  বিস্ময়কর  এক  নারী ।    তার  মাঝেই  হারায় বার বার  তার  মন। বহু চেষ্টা  করে ও মন হতে  তাকে ফেলতে  পারে  না । এতো  এতো যোগ্য পাত্রী দেখে ও কিন্তু  কণার  চেহারাই ভেসে  উঠে  বার বার । কণা কে একদিন  সব বলেই  ফেললো ….  মিসেস  কণা  এক  সন্তানের জননী   স্বামী  ডাক্তার থাকে অন্যত্র , স্বামী  ইচ্ছে  হলে মাসে  দুই একবার  আসে  নয় বছরের  দাম্পত্য জীবনে  স্বামীর সাথে সম্পর্ক  ভালো নয় । স্বামী   ভালো ছিলো  না ,   নিত্য নতুন  নার্সদের  সাথে  সম্পর্ক  গড়ে  তোলা  তার  চরিত্র।   এ  নিয়ে  বহু    ঝগড়া  ফ্যাসাদ  ও হয়েছে । তারপর  হতেই  মন ক্স্ট  নিয়ে  জীবন  পার করা  সন্তানের  দিকে  তাকিয়ে ।সন্তানের  জন্যেই  বিচ্ছেদে  গড়ায়নি এখনো  কণা,  এর মধ্যে রায়হান   সবই  জেনেছে  ধীরে  ধীরে গড়ে  উঠে  গভীর  আন্তরিকতা । …. রায়হান  বলতে  পারছে  না  তার  মা বাবাকে যে  সে  তার  চেয়ে ও বয়সে  বড়   বিবাহিত  কণা কে প্রচন্ড  ভালোবাসে। এর মধ্যে  বহু সুন্দরী  শিক্ষিত  ভদ্র পরিবারের  পাত্রীকে  এড়িয়ে  গেছে  রায়হান । কিন্তু  সেদিন  মা বাবা   বল্লো  তোকে আর মেয়ে দেখতে  হবে না  আমাদের পছন্দ হলেই  ঠিক  করে  ফেলবো ।   
   তোর   দূর সম্পর্কের  মামাতো বোন হীরা মেয়েটি  সুন্দরী লক্ষী  আমাদের  চেনা জানা  তোকে ও খুব পছন্দ  করে । রায়হান  বল্লো  pls…তোমরা  আমাকে  একটু  সময়  দাও ।

রায়হানের  মন   খারাপ  হয়ে  গেলো ,  কণাকে  ফোন  করে  বল্লো  আমি  তোমাকে  বিয়ে করতে  চাই ,   রায়হানের কথা  শুনে কণা  বলে  আচ্ছা  রায়হান  তুমি কি  পাগল হয়েছো ? এটা  কি সম্ভব ?  আমাদের  সমাজ পরিচিতি  নিয়ম  এসব  ভেবেই চলতে হয়  ।

শোনো রায়হান ,জীবনের জন্যে  কি প্রয়োজন  বা সুখী হতে  যাকে আমরা  যাকে চাই  তাকে  পরিস্থিতির কারণে বা  ভাগ্যের  কারণে আমরা পাই  না,   আর পায়  না  বলেই  দুনিয়া জুড়ে  এত্তো  ক্স্ট হাহাকার ।

কণা  দীর্ঘশ্বাস  ছেড়ে বল্লো ….বল্লো  বিয়ের  জন্যে  রাজী  হয়ে যাও…  রায়হান বল্লো   এটা  আমি কোন ভাবেই  পারবো না ।    আমার  জন্যে  ভীষণ  ক্স্টময় পরিস্থতি  হয়ে  দাঁড়াবে তুমি ছাড়া  অন্যে কেউ  আমার  জীবনে  ভাবতেই  পারি না কারণ  আমি মন  হতে  তোমাকে  ভালোবাসি , অন্যে কারো  সাথে  সুখী  হতে  পারবো  না ।
কণা  বল্লো — দেখো রায়হান ” তুমি অবিবাহিত ছেলে   ইচ্ছে  করলেই  সব  করতে পারবে কিনতু  আমার  জন্যে এসব অনেক কঠিন ও  জটিল”

ইদানিং  অফিস  শেষে  রায়হান  কণার ছেলেকে পড়াতে  যায় …..কণা ও তার  পছন্দের  চা নাস্তা   করে  রাখে  এভাবেই …… রায়হান  একসময়  কণার   প্রেমে  নিজেকে  এত্তো  বেশী  জড়িয়ে  ফেলেছে ।
অন্যে কোন  মেয়ের  কথা  ভাবতেই  পারে  না ।  
রায়হান বল্লো  এবার  তুমি  আমাকে  বিয়ে  না  করলে  আমি নিজেকেই   শেষ করে  ফেলবো ।
মা বাবা কে  বলবো তোমার কথা  এবার  বাড়ি গিয়ে   যতো  যাই হউক একটা সমাধান  করবো ।
কণা  বল্লো  pls…এটা  উনারা  কোন দিন মানবেন  না , মানার  কথা ও না । বয়সে আমি তোমার   বড়  বিবাহিত …ও  সন্তানের মা ….

রায়হান  বল্লো  তাতে কি? এটা কোন বিষয় না , আমি ও বিয়ে  করলে বাচ্চা হতো , তুমি তো পঁচে  যাওনি।

ঠিক  আছে  আমার  আপত্তি  নেই  কিন্তু  ভেবেই  দেখো  পরের ঝামেলা  গুলো  তুমি সহ্য  করতে  পারবে  কিনা । রায়হান বল্লো -” কণা  আমি  তোমার  জন্যে সব  পারবো “

পরের  সপ্তাহে  বাড়ি  গেলে  সাহস করে  খাবার টেবিলে  মা বাবাকে   বল্লো  একটা  কথা  বলতে  চাই  ….আমতা  আমতা  করছিলো ,  রায়হান বার  বার  পানি  খাচ্ছিলো

…..মা  বল্লো  কি  বলতো? 
তোকে এমন  দেখাচ্ছে  কেনো ?  মাথা নিচু  করে  বল্লো  আমি  কণা  নামের  একটা  মেয়েকে  ভালোবাসি…

শুনেই   মা  হেসে  বল্লো  তাহলে এটা  আগেই  বলিসনি  কেনো ?
কে সে  কি করে ?
রায়হান  বল্লো  সে  আমার  সিনিয়র  পদে  আর  বয়সে  বড়  এক সন্তানের  মা ….
শুনেই  বাবা  মা   বল্লো  কি  বলছিস ! তোর  মাথা  ঠিক  আছে ? এসব  কি  শুনাইলি?   … রাগে  মা  কাঁদতে  ছিলো ….. রায়হানের  মা বাবা   কিছুতেই  রাজী  নয় ।
       কেনো কিসের  জন্যে তুই বিবাহিত  মেয়েকে  বিয়ে করবি ? তার উপর এক  সন্তানের  মা । ছি: ছি : তুই  কি  করলি ?  মেয়ের কি অভাব আছে?
এটা  সম্ভব  নয় ,  তুই  না  বুঝে  আবেগে  চললে হবে  না ,  এসব আজ ভাল  লাগছে … পরে  ভালো  লাগবে  না বাবা ।

…..তোমরা বূঝতে পারছো না আমি  কণা কে  ভালোবাসি । ভালোবাসার  সাথে বয়সের সংখ্যায় কিছু  যায় আসে না।  অন্যে  কারো  সাথে  আমার  মন  মানসিকতা  মিলবে না । অন্যে  কারো  সাথে আমি  মানিয়ে  নিয়ে  জীবনে  সুখী  হবো না ,  পারবো না ।মায়ের   কান্না কাটিতে  মনটা  খারাপ  হয়ে  গেলো রায়হানের  । মা এর  হাত টা  ধরেই বল্লো  মা  দেখো  , আমাদের সমাজে বিবাহিত আর  সন্তানের  মা  হলেই বুঝি  মেয়েটি  পশু হয়ে যায়।  এখনও  আমাদের সমাজ  কুসংস্কারে  পূর্ণ । একবার  মেয়েটির  ভাগ্যে  ভাল  না হলেই  তাকে  সারাজীবন  যন্ত্রণা ভোগ  করে  সংসার  করেই  যেতে হয়। 

  পরিবার  ও সমাজের  চাপে  তার  সুখী  হবার কি  কোন  অধিকার  নেই মা ?  মরণ  পর্যন্ত ক্স্ট  ভোগ  করেই  জীবন  কাটাবে ? কণা  ভীষণ ভালো মেয়ে  আমাকে প্রচন্ড  ভালোবাসে। 

মা   pls…শুনো  আমি  কণাকে  সুখী  জীবন  দেখতে চাই  নিজেও   সুখী  হতে  চাই  । তার  সব কথা  মাকে  বলার  পর  …..
মা  বল্লো  তার বাচ্চার  কি হবে ?  অন্যের  বাচ্চার   দায়িত্ব  তুই  কেনো  নিবি?
আমি  সেই সন্তানের  বাবার  দ্বায়িত্ব  পালন  করবো ।

বাবা  বল্লো  তোর  মাথা  নষ্ট  হয়ে  গেছে  আমি  কিছুই  ভাবতে পারছি  না । সমাজে  মুখ  দেখাতে  পারবো না…..
রায়হান বল্লো  সমাজ  কয়দিন  তোমার  খোঁজ  রেখেছে  বলো ?
আমার  নবীজীর দোহাই  দিয়ে  লোকে  যখন দুই তিন বিয়ে করতো  তখনও  সমাজ ছিলো মা ।  আবার  নবীজী যখন  অল্প বয়সে  বিধবা নারী বিয়ে করেন  সেটা তো  কেউ  অনুসরণ করে না … সমাজতো   আমরাই   বানাই ।

এবার  ছোট ভাই বল্লো – ভাই  সমাজ কি বলবে  ভাবো ! সেটা কিন্তু  বড় বিষয় আমাদের তো সমাজ নিয়ে থাকতে হবে । 

তারপর  বাবা  ডেকে  বল্লো –  বাবা  রায়হান   হীরা  অনেক  ভাল মেয়ে তোর  মায়ের  খুবই  পছন্দ , তুই ও সুখী  হবি  ফিরে  আয় বাবা !

না  বাবা  আমি ও  কণাকে  কথা  দিয়েছি  আমি  ওকে  ছাড়া  অন্যে কিচ্ছু  ভাবতে  পারি না ।
মা  বল্লো  একবার বিয়েটা  হয়ে  যাক ,হীরার  সাথে  দেখবি  সব  ঠিক  হয়ে  গেছে । তুই  কণা কে  ভুলে  যা ,চাকরী হতে  বদলির  ব্যবস্থা  কর । সমাজ  আত্বীয়  স্বজনদের জবাব  দেবো কি ?

রায়হান  পড়েছে  মহা  বিপদে…একদিকে  পরিবার  অন্যে দিকে  তার অসম  ভালোবাসা ….মায়ের  এক  কথা….  কণাকে  বিয়ে  করলে  আমাদের  সাথে  কোন  সম্পর্ক  আর  রাখবি  না । ভাববো  রায়হান  নামের  কোন  ছেলেই   আমাদের  নেই …..

রায়হান  বল্লো  pls…মা একবার  কণাকে  দেখো ওর  সাথে  কথা  বলো  তারপর  যা  বলবে  শুনবো ….আমার  সুখের  চেয়ে  নিজেদের  জিদ টাকে ধরে  রেখো  না মা । বিয়ে  করাটা  বড়  বিষয়  নয়  , কে  কাকে নিয়ে  সুখী  হবে  সেটা  কেবলই  নিজস্ব ব্যাপার ।
              অভিভাবকরা  সন্তানের  ভালো  করতে  গিয়ে  অনেক  সময়  উল্টো টাই  হয় ।সন্তানের জীবন  দুর্বিসহ  নরকের   দিকেই  ঠেলে  দেয়….. ধরো তোমাদের  কথা  রাখতে  বিয়ে  করলাম  কিনতু  গোপনে  কণার   সাথে  সম্পর্ক  রাখলাম  তোমরা  দেখবে ও  না  জানবে ও না  ।

মাঝে  হীরা  মেয়েটির   জীবন টা  ছারখার  হবে ,  লাভটা  কি  হবে বলো  মা ? ….তোমরা  রাজী  হলেই আমি খুবই সুখী হবো মা ।

কিনতু না  কে শুনে কার কথা , মা বাবার ভাবছেন  এ  বয়সে আবেগ থাকা  সাভাবিক,  এত্তো বলার পর ও সবাই  মিলে এক প্রকার মানসিক প্রেসার সৃষ্টি করেই  রায়হান কে হীরার সাথেই বিয়ে দেয়া  হয় ।

রায়হান মাসে একবার বাড়ি আসে ব্যস্ততার  বাহানাতে প্রায় আসে না ….. রায়হান নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করে রেখেছে কণার প্রেমে ….
হীরাকে রায়হানের অবহেলার সব কারণ তার মা বাবা ভাই আগেই জানতো , সেই সুযোগ তারা পুরো ব্যবহার করে হীরার উপর ।

এমনই শত শত হীরারা  যন্ত্রণা ময়  জীবন মেনেই  সংসার করে  যায় জীবনে ।
হীরা আজকাল কোন দোষ না  করলেও দোষ । হীরা এক সময় প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ে । অবহেলা আর  বঞ্চিত হীরা জানে না  কি টানাপোড়া  সম্পর্কে তৃতীয় প্রাণের আগমন ঘটছে …..

বছর খানিক পর রায়হান বাবা হলো , বাবা মায়ের ধারণা ছিলো , এবার রায়হান সংসারে মন দেবে । কিনতু  হলো বিপরীতটা   রায়হান কণা কে অফিসের  পাশে  বাসা ভাড়া করে নিয়ে আসে পাশা পাশি  ফ্লাটে ।
রায়হান কণা কে নিয়ে  এখানে সেখানে অবাধে  ঘুরছে ফিরছে , এদিকে যে বাসায় ভাড়া  থাকে সে বাড়ির মালিক   হীরার  বাবার বন্ধু।  দেখেই  হীরার বাবাকে  ফোন  দেয় , খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে …..

….এভাবেই   ভঙ্গুর  পরিবার ও অসহায় সন্তানদের আহাজারি বাড়ছে  দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে  সিঙ্গেল মা বাবার সংখ্যা ….

ছোট্টো জীবনটায়  বাধ্যবাধকতায় পড়ে কারো জীবনকে  অশান্তিময়  করার কোন মানে হয় না। । পরিবারের  চাপে পড়ে  নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে শুধু মাত্র সামাজিক তার জন‍্যে বিবাহ করা কোন  ভাবেই উচিত নয় ॥

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD