লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভেজা ৯ বছরের এক শিশুকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ জুন (বুধবার) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে এই জঘন্য ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত জামাল হোসেন (৪০) একই এলাকার মুন্সি বাড়ির মৃত নুরু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে মাদ্রাসার ছুটি হলে ৯ বছরের ওই শিশুটি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে একা পেয়ে ইছাপুরা মুন্সি বাড়ির জামাল হোসেন তাকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচানোর কথা বলে রাস্তার পাশের নিজের ঘরে ডেকে নেয়। শিশুটি ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই জামাল দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে একপর্যায়ে সে জামালের কবল থেকে ছুটে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবা একজন প্রবাসী। ঘটনার পর তার মা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মিমাংসা করার আশ্বাস দেন। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার এই চেষ্টা মেনে নিতে পারেনি এলাকাবাসী। এরই মধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চারদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে ওঠেন।
এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত জামাল হোসেন জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। বারবার এমন পার পেয়ে যাওয়ায় সে এবার একটি ৯ বছরের শিশুকে টার্গেট করার মতো জঘন্য অপরাধ করার সাহস পেয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর নানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজহারুল হক খোকা মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যম ‘যায়যায়দিন’-কে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
“ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। আমরা অভিযুক্তকে সামাজিকভাবে কঠিন শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় এটি মিমাংসা করে ফেলবো।”
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মিমাংসার কথা বলা হলেও, অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দিতে রাজি নন সাধারণ গ্রামবাসী। তারা তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুন নাহার জানান:
“১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”