স্টাফ রিপোর্টার, শ্রীমঙ্গল: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষালয় বা মক্তবে যাওয়ার পথে ৮ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের লোমহর্ষক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় কালাপুর ইউনিয়ন থেকে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।
আটক আনোয়ার হোসেন শ্রীমঙ্গল পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী মুজিবের অনুসারী ও হাজী মুজিব মিডিয়া সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। সে একই এলাকার মৃত মুসলিম মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটি বাড়ি থেকে মক্তবে পড়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মসজিদের দিকে রওনা হয়। পথিমধ্যে আনোয়ার হোসেন ওই শিশুকে মসজিদের ইমাম সাহেবের জন্য টিফিন নেওয়ার কথা বলে ফুঁসলিয়ে নিজের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর ভিকটিম বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে, তাকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে এই জঘন্যতম অপরাধের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত আনোয়ারকে তার বাড়ি থেকে আটক করে। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে, তাকে থানায় নিয়ে আসার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে বহনকারী সিএনজি অটোরিকশা এবং আনোয়ারের ওপর পুনরায় হামলার চেষ্টা চালায়।
এই বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং আমরা মামলাটি রেকর্ড করেছি। অভিযুক্ত ধর্ষক বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের দাবি, এই বর্বরতম অপরাধের সাথে জড়িত আনোয়ারের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, কোনো অদৃশ্য প্রভাবে যেন সে পার না পেয়ে যায়। দ্রুততম সময়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।