মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পুরনো ভাঙা ২৬টি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। যত সময় যাচ্ছে পাল্লা দিয়ে পানি বেড়েই চলছে। একটু নিচু এলাকার বাড়ি ঘরের ছাদ পর্যন্ত পানি উঠছে। ফেনী-বিলোনিয়া সড়কে পানি ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত রয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন সড়কে পানি ৭ থেকে ৮ফুট উচ্চতায় রয়েছে। পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন, ‘স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় পরশুরাম পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের প্রায় অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ভারী বর্ষণ আর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে জেলার আখাউড়ায় অন্তত ৩০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু পুকুর ও সাড়ে ১২ শ হেক্টর কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে ডুবে সুবর্ণা আক্তার (২৫) নামে গর্ভবতীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বীরচন্দ্রপুর গ্রামের পারভেজ মিয়ার স্ত্রী। আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, সকালে বন্দরে কয়েকটি মাছের পিকআপ ভ্যান এসেছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে বড় ট্রাকগুলো আসতে পারেনি। এর ফলে রপ্তানি কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজলা পারভীন জানান, ঢলের পানিতে বেইলি সেতু তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতুটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইমিগ্রেশনের কার্যক্রমও সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নোয়াখালী : ফেনীর মহুরী নদীর পানি ঢোকায় নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। নতুন করে জেলার অনেক এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে নোয়াখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত জেলা আবহওয়া অফিস রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে নয়টি উপজেলার ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ সব সড়ক, ফসলি মাঠ এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ। লক্ষ্মীপুর : মেঘনা নদীর আস্বাভাবিক জোয়ার এবং কয়েকদিনের টানাবৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষ্মীপুরের লাখো মানুষ। ডুবে গেছে আমনের বীজতলাসহ ফসলি কৃষি জমি, রাস্তাঘাট, ভেসে গেছে মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয়, নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে গেছে পানি। চারদিকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : রায়পুর উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বেশি কষ্টে রয়েছেন উপকূলীয় জনপদের বাসিন্দারা। দক্ষিণ চরবংশী, দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিলের বেশির ভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। কুমিল্লা : ভারত থেকে আসা পানিতে বিপৎসীমায় রয়েছে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। আশঙ্কা রয়েছে বাঁধ ভেঙে পড়ার। বাঁধে অবস্থান করছে সহস্রাধিক পরিবার। এদিকে পানিতে ডুবে গেছে দক্ষিণ কুমিল্লার বেশির ভাগ সড়ক ও ফসলি জমি। হবিগঞ্জ : পাহাড়ি ঢলে বেড়েই চলেছে হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি। নদীর পানি সবগুলো পয়েন্টেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। যে কারণে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার : পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার টিলাগাঁও, জয়চ-ী, সদর, রাউৎগাঁও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। সড়ক পথেও অনেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সিলেট : বৃষ্টি কমলেও বাড়ছে সিলেটের বিভিন্ন পয়েন্টের নদনদীর পানি। এর মধ্যে কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সিলেটসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। বরিশাল : বরিশাল বিভাগের ৭টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বরিশাল নগরসহ নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।








