ব্রিফিংয়ের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সচিবালয়ের অফিস ত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে স্বরাষ্ট্র সচিবসহ এ মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে মধ্যরাত পর্যন্ত অফিস করতে দেখা গেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ১৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোন ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সহিত জড়িত রহিয়াছে মর্মে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে’। ১৮ (২) ধারায় বলা হয়, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে কোন ব্যক্তি বা সত্তাকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে বা তফসিল হইতে বাদ দিতে পারিবে অথবা অন্য কোনভাবে তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে’।
পাকিস্তান আমলেও জামায়াত দুবার নিষিদ্ধ হয় : প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, উপমহাদেশে দেশভাগের আগে ১৯৪১ সালে দলটি প্রতিষ্ঠা করে মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদি। ১৯৫৯ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগে প্রথমবার পাকিস্তানে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান প্রণীত মুসলিম পারিবারিক আইনের বিরোধিতার কারণে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কর্মকান্ড আবারও নিষিদ্ধ হয়। তবে পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ১৯৭৭ সালে সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের পর ফের রাজনীতিতে আসে জামায়াত। তখন থেকে জামায়াতের বিরোধিতা করে আসছিল সুশীলসমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা।
নিবন্ধন হারায় ১১ বছর আগেই : ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন কমিশন থেকে সাময়িক নিবন্ধন দেওয়া হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা নিয়ে ২০০৯ সালে রিট করেন তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ ব্যক্তি। এরপর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) নামে নতুন নিবন্ধন চাওয়া হয়েছিল। সে নিবন্ধনও মেলেনি।
যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে বিচারে উদ্যোগ হিমঘরে : মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যে রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, ৫৩ বছরেও সেই জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ বা অপরাধী সংগঠন হিসেবে তাদের বিচার শুরু করা যায়নি। এ লক্ষ্যে ১০ বছর আগে আইন সংশোধন করে দলটির বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নিলেও তা এখন অনেকটা হিমঘরে।
একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায়ও ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। দন্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের শীর্ষ নেতারা হলেন- সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। রাজাকারের শিরোমণি বলে কুখ্যাত গোলাম আযমকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেওয়া হয়। একে একে দলটির ৭৫ নেতা-কর্মী যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডিত হয়েছেন।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক রায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নানা অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরপর ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিচারের জন্য তদন্ত শেষ করে তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষ হওয়ার পরপরই প্রসিকিউশনের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দল বা সংগঠনের বিচারের সুযোগ না থাকায় ওই সময় বিচার করা যায়নি। এরপর যুদ্ধাপরাধের দায়ে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার করার জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।








