লাকসাম-মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসামে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার পরিবারকে সমাজচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ইচ্ছাপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চার পরিবারের নারী, পুরুষ, শিশু ও কিশোরসহ সব সদস্য গৃহবন্দি হয়ে দিনযাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করে লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুল নাহার লাইলী জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাম্য শালিশের মাধ্যমে সমাধানের জন্য দুপক্ষের লোকজন একাধিকবার শালিশে বসে। ২০ আগস্ট পুনরায় বসার সিদ্ধান্ত হলে এর মধ্যে একপক্ষ আদালতে মামলা করেন। এ ঘটনা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছে বলে ফেসবুকে দেখতে পাই। খবর পেয়ে মঙ্গলবার ওই এলাকায় পরিদর্শন ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার (আজ) উভয়পক্ষের লোকজনকে থানায় আসার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ইচ্ছাপুরা গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মমিন আলীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ কিছুতেই যখন মেটে না তখন সমাজে একাধিকবার বৈঠক ডেকে গ্রাম্য মাতব্বররা। সর্বশেষ ১৯ জুন দুইপক্ষের লোকজনকে জায়গা সম্পত্তির কাগজপত্র সংগ্রহ করে চলতি মাসের ২০ আগস্ট তারিখে পুনরায় গ্রাম্য শালিশে বসার কথা। সেই তারিখে গ্রাম্য শালিশ বসার আগে একপক্ষ মমিন আলী বাদী হয়ে ২ জুলাই আলমগীর হোসেন, অহিদুর রহমান ও নেজার আহমেদ টুটুলকে আসামি করে কুমিল্লা আদালতে মামলা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সমাজ শালিশি অমান্য করায় সোমবার মাইকিং করে চার পরিবারের নাম উল্লেখ করে তাদের সমাজচ্যুত করার ঘোষণা করে সমাজ কমিটির লোকজন।
মাইকিং প্রচারের একটি ভিডিও ধারণ করলে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, ইচ্ছাপুরা উত্তরপাড়া হাজী আবদুর রহমানের পরিবারের সব সদস্যদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাকের বাবা মমিন আলী, হাসানের বাবা আবদুল খালেকের আবূ, আবদুর রশিদ ও কুরবানালিসহ সব সদস্য বর্তমানে সমাজ কমিটির বিচার-আচার মানে না…। সমাজের আইনশৃঙ্খলা অবজ্ঞা, আইন অমান্য করার কারণে এদেরকে সব কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং সমাজচ্যুত করা হয়েছে। সমাজের জনগণের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য, লেনদেন ও তাদের সঙ্গে দোকানে চলাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। আদেশক্রমে ইচ্ছাপুরা পূর্ব ও পশ্চিমপাড়া দুই সমাজের কমিটির নেতারা।