শব্দগুলো
রাগ করে দাঁড়িয়ে থাকে জানালার ধারে,
আকাশের দিকে চেয়ে থাকে—
যেন কেউ আর আসবেনা তাদের জন্য।
বুকের অরণ্যে জমে থাকা শব্দরা
এখন মরচে পড়া ক্যানভাস,
তারা ছবি আঁকে না,
শুধু চোখের ভাষায় বলে—
“সে তো আর আসবে না!”
আমার কলমটাও আজকাল
ঘুমোয় কাতর দুপুরে।
ডায়েরির ভাঁজে লুকিয়ে রাখা চিঠিগুলো
নিজে নিজে জ্বলে ওঠে কখনও কখনও—
যেন প্রেমের আগুন
ছুঁয়ে ফেলে নিজেকেই!
তুমি তো জানো…
আমি কীভাবে তাকিয়ে থাকতাম বিকেলের দিকে—
যেন প্রতিটি আলো তোমার কণ্ঠস্বর হয়ে বাজবে বাতাসে!
কিন্তু এখন আলোগুলোও ফিকে,
সূর্য অস্ত যায়,
কিন্তু ফেরে না আর।
একটা চেয়ার আজও খালি পড়ে থাকে বারান্দায়।
যেখানে তুমি শেষবার বসে বলেছিলে—
“সব ঠিক হয়ে যাবে, একদিন… হয়তো…”
সেই ‘হয়তো’
এখন আমার দিনলিপির সবচেয়ে দীর্ঘতম শব্দ—
যার কোনও সমাপ্তি নেই…
শুধু দীর্ঘশ্বাসের মতো গড়িয়ে পড়ে
প্রতিটি রাতে।
আমি তো আর গান লিখি না।
তবু, তোমার চলে যাওয়ার প্রতিটি দিনই
একটা অসমাপ্ত গান হয়ে জমা পড়ে
আমার মনের খাতায়।
তুমি শুনবে না জানি…
তবু আমি গুনগুন করি—
একটা ভাঙা সুরে,
কাঁপা গলায়,
অপ্রকাশ্য ভালোবাসার ভাষায়…