1. admin@mannanpresstv.com : admin :
কবি মোঃমেহেদী হাসান এর কবিতা গুচ্ছ - মান্নান প্রেস টিভি
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

কবি মোঃমেহেদী হাসান এর কবিতা গুচ্ছ

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৭২ Time View

০১/আমি জেলখানা থেকে বলছি

মোঃমেহেদী হাসান

আমি একটি ছোট্র শিশু পেটের ক্ষুধা মিটানোর জন্য
কতো মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে ছিলাম।
কেউ দেয়নি আমাকে কোন খাদ্য দ্রব্য,
সবাই আমাকে তারিয়ে দিয়েছে হঠাৎ এক মুহূর্তে
একজন প্রভাবশালী লোক এসে বললেন,
আমার সাথে চলো আমি তোমাকে খাদ্য দ্রব্য দিব।
কী করার ভাই! পেটের ক্ষুধা মিটানোর জন্য তার
গাড়িতে চরে  রওনা দিলাম তার বাড়ির উদ্দেশ্য।
বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাকে পেট ভরে খাওয়ালো এবং বললেন
আজ থেকে আমার বাসায় থাকবি তুই আমার ছেলের মতো।
আমি আর না বলতে পারলাম না আমি ছোট্র মানুষ আমি যদি এই বাড়ি
ছাইড়া চইলা যাই তাহলে আমি আবারো ক্ষুধা যন্ত্রণায় মরবো।
একদিন আমি বড় হলাম লোকটি ছিলো বড় রাজনীতিবিদ
এবং প্রভাবশালী ধনি টাকা পয়সার মালিক।
আমার হাতে একটি পিস্তল দিয়ে বললেন
আমার নির্বাচনের সময় এসে গেছে,
তোর এই পিস্তল চালানো শিখতে হবে
তুই যদি আমার কথা না শোনো তাহলে তোমাকে মেরে ফেলবো।
কী আর করার ভাই নিজের জীবন বাচানোর জন্য,
পিস্তল চালানো শিখে নিলাম এবং তার আদেশ মানতে  বাধ্য হলাম।
তুই আমার নির্বাচনের মিছিল সমাবেশ এর সময় আমার বক্তৃতা বলার সময় তুই
আমার পাশে থাকা ব্যক্তিকে টার্গেট করে গুলি ছুঁরে মেরে ফেলবি।
তাঁর ফলে মানুষ বুঝতে পারবে বিরোধী দলের কোন লোক
এই কাজ করছে আমাদের নেতাকে মেরে ফেলার জন্য।
সবাই বিরোধী দলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে
আমাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করবে।
তারপর আমি এই দেশের এমপি মন্ত্রী অথবা সরকার হবো।
কী আর করার ভাই,
এই ভাবে আমি নিরীহ মানুষের প্রাণ নিয়ে তাকে একদিন বড় মন্ত্রী বানিয়েছি।
হঠাৎ আমাকে মন্ত্রী সাহেব বললেন -সরকার কে মেরে ফেলার আদেশ দিলেন কিন্তুু আমি রাজি হইনি।
তিনি আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিলেন।
বাধ্য হয়ে রাতের আঁধারে সরকারকে মেরে ফেলার জন্য গেলাম,
কিন্তুু গুলি ছুঁড়তেই পুলিশের নিকট ধরা পড়ে যাই।
এই জন্য আমার যাবৎ জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
কিন্তুু আমার মন্ত্রী মশাই এই কথা শুনে আমার একটি বার খোঁজখবর নিলো না।

০২/

কর্ম করে বাঁচতে চাই
মোঃমেহেদী হাসান

আমার দুটি পা নেই তবুও আমি এই,
সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই।
তাই আমি আমার দুটি পা না থাকা সত্য,
আমি কর্ম করে টাকা পয়সা উপার্জন করতে চাই।
আমি চাই না ভিক্ষা করতে আমি চাইনা অন্য লোকের সাহায্য নিয়ে বাঁচতে,
আমি কর্ম করে বাঁচতে চাই।
আমি আমার চলাফেরা করার গড়িতে কিছু খাদ্য দ্রব্য নিয়ে আমি রাস্তা রাস্তা,
দুই হাত দিয়ে গাড়ির চাকা ঘুরাই এবং চলাফেরা করে খাদ্য দ্রব্য বিক্রয় করি।
এতে আমার যে আয় ইনকাম হয় তাই দিয়ে আমার সংসার চলে,
তাই আমি কেন ভিক্ষা করবো?
আমি তো ভিক্ষা না করে পাড়ি এবং অন্য লোকের সাহায্য না নিয়েই পাড়ি।
তাই ভিক্ষা মতো নিম্নমানের কাজ আমি কেন করবো!

০৩/আমি একজন শ্রমিক

মোঃ মেহেদী হাসান

আমি একজন শ্রমিক পেটের ক্ষুধা নিবারণ,

করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করি।

পরিশ্রমের করে যে অর্থ কামাই করি তাই দিয়ে,

আমার সংসার চালাই আমি চুরি ডাকাতি করিনা।

সপ্তাহ বা মাসের শেষ পাই আমি বেতন কিন্তুু,

মালিক আমার বেতন টাকা ঠিক মতোদেয় না।

আমি যদি চাইতে যাই আমার ঘাড় ধাক্কা,

দিয়ে আমাকে বাসা থেকে বেড় করে দেয়।

আমি নিরুপায় হয়ে যাই কী করবো জানিনা,

গাদার মতো আমি খেটেই মরছি নেজ্য টাকা পাইনা।

এক টাকা দুই টাকা করতে করতে প্রচুর টাকা পাবো,

আমি মালিকের কাছে এতো হাতে পায় ধড়ি টাকা জন্য কান্নাকাটি করি তবুও দেয়না ।

অন্যর নিকট নালিশ দিলে তাড়াও তার বিচার করেনা আমি আজ অসহায়,

 নিজের পরিশ্রমের টাকা আদায় করার জন্য পুলিশের নিকট যাই।

কিন্তু পুলিশ বেটা আমার কথা শুনে না উল্ট,

আমাকে পাগল বলে আটক করে টর্চার।

মালিকের উপারে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি তার পেটে ছুরি চালাই,

এই আপরাধের কারনে আজ আমার জেল হয়।

কিন্তুু আমি আমার পরিশ্রমের টাকার জন্য কতো মানুষের নিকট এবং,

পুলিশের নিকট বিচার চেয়েছি কিন্তু কেউ আমার কথা শুনে নাই।

০৪/হে পৃথিবীর সকল মুসলমান

মোঃ মেহেদী হাসান

হে পৃথিবীর সকল মুসলমান,
তোমরা কেন চুপচাপ।
এই সুন্দর পৃথিবীতে বেড়ে গেছে,
ইসলামের শক্র নবীর দুশমন।
তোমরা সবাই মিলে মিশে কেন
প্রতিবাদ করো না?
দিন দিন বেড়েই চলেছে,
মুসলিমদের উপর জুলুম ও অত্যাচার।
কেড়ে নিচ্ছে মুসলিম জাতির
সকল ধন ও সম্পদ।
রাস্তা – ঘাটে করছে তারা মা- বোনদের অপমান ও কুটক্তি কথা।
পৃথিবীর থেকে বিদায় করে দিতে
চাচ্ছে তারা নারীদের পর্দা।
কিছু কিছু মুখোশধারী আলেমদের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ভুল মাসআলা।
বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে তারা
মুসলিম ভাই-বোনদের মাঝে।
হে পৃথিবীর সকল মুসলমান,
যাতি তোমরা এখনো চুপচাপ।
বেজাতিরা মুসলিমদের খাদ্যের মধ্যে
ভেজাল মিলিয়ে করতে চাইছে ঈমান নষ্ট।
তারা আরও চাইছে পবিত্র আল কুরআনের কিছু
কিছু  জায়গায় ভুল আয়াত বসাতে।
তোমরা কী তারপরেও চুপ করে,
থাকবে পৃথিবীর সকল মুসলমান?
তোমরা সবাই মিলে মিশে
এক জোট হয়ে যাও।
দেখবে তোমাদের কোনো ক্ষতি
করতে পারবে না বেজাতির দল।

০৫/সাংবাদিক

মোঃ মেহেদী হাসান

আমি এক সাংবাদিক,
অন্যায় কাজ এর বিরুদ্ধে আমি লিখি বলে আজ আমার জীবনটা নিরাপদ নয়।
রাস্তা – ঘাটে চালার পথে হতে হয় হয়রানির শিকার,
কেউ আবার পিস্তল তাঁক করে ভয় দেখায়।
আমি অন্যায় কাজ এর বিরুদ্ধে না লেখালিখি করি,
আরে আমি জন্মের পড় শপথ
নিয়েছি অন্যায়করীর বিরুদ্ধে লিখবো এবং অন্যায়কারীর মুখোশ উম্মেচন করবো।
আমার পত্রিকার পাতায় ঝুরে আছে অন্যায়কারীর নাম ও ছবি,
চেয়ে দেখো এরা এই দেশের তারা নাম করা ব্যক্তি।
তাদের কাউকে ছাড়িনি আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই,
আমি পেশা বেঁচে নিয়েছি,
সাংবাদিক এই পদ সত্যবাদী পদ।
আমি সত্যি কথা বলি এবং পত্রিকার পাতায় সত্যিকথা লিখি,
কোন ঘটনা মিথ্যা নয় চেয়ে দেখো এক বার আমার পত্রিকার পাতায়।
আমি সত্যি ঘটনা তুলে  ধরি বলে আজ আমার পরিবারের লোক নিরাপদ নয়,
তাদেরও  মেরে ফেলার ভয় দেখায়।
আমার পরিবারের সকল মানুষ এবং আমি নিজেও যদি সত্যি ঘটনা পত্রিকার,
পাতায় লেখার জন্য জীবন চলে যায় হাসি মুখে বিদায়  নিব দুনিয়ায় থেকে।
তবুও আমি সাংবাদিক কথা ছাড়বো না,
কারণ, এটি একটি মহান পেশা,
আমি ঘুষ খেয়ে মিথ্যা জিনিষকে সত্যি বানাতে পারবো না।

০৫/

আমি কবি হতে চাইনি
মোঃমেহেদী হাসান

আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ আমি, কবিতার মাধ্যমে অন্যায় – অবিচার এর প্রতিবাদ করবো বলে।
আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কিছু লিখবো বলে।
আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ যারা মা ও বোনদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখবো বলে।
আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ, কিছু মুখোশধারী অমানুষদের বিরুদ্ধে কিছু লিখবো বলে।
আমি কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ, যারা মুক্তিযুদ্ধ এর ব্যাচ লাগিয়ে গোপনে রাজাকারের সাথে হাত মিলিয়ে এক সাথে চলে।
আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ এই সোনার বাংলাদেশে কিছু নামধারী আইন জীবী মানুষ আইনের সহায়তা দিয়ে সন্ত্রাসীদের বুক ফুলিয়ে চলতে সহযোগিতা করে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখবো বলে।
আমি কবি হতে চাইনি,
তবে কবি হতে বাধ্য হয়েছি,
কারণ যারা গরিব – দুখি মেহনতি মানুষের অর্থ সম্পদ লুটে নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কিছু লিখবো বলে।

০৬/

আজান
মোঃ মেহেদী হাসান

তোরা আয়রে ছুটে আয়
তোরা আয়রে ছুটে আয়,
মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনি
শুনে মসজিদে ছুটে আয়।
মসজিদে আসলে রে ভাই,
পাওয়া যাবে আল্লাহর দিদার।
ফজরের আজান শুনে যেই লোক ঘুমায় বিছানায়, তার মতো হতো ভাগা নাইরে দুনিয়ায়।
মসজিদে নাই কোন হিংসা ও অহংকার,
ধনী ও গরীব সবাই মিলে করি নামাজ আদায়।
মোরা আল্লাহর নামে জিকির করি,
ও তাঁর বন্ধু এবং পেয়ারা রাসূলের শানে দুরুদ পড়ি।

০৭/লাইলাতুল কদর

মোঃমেহেদী হাসান

হে খোদা দয়াময় তুমি আমায় লাইলাতুল
কদরের উচিলায় মাফ করে দাও।
তোমার প্রিয় বন্ধু ও রাসূল  হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ) বলেছেন এ-ই রাত নাকি অতি উওম।
এ- ই লাইলাতুল কদর নাকি ভাগ্যের রজনী,
এ-ই রাতে বান্দা তোমার কাছে যা চায় তাই সে পেয়ে যায়।
তাই তোমার কাছে আমার ফরিয়াদ তুমি আমার
আসমানী বালা জমিনি বালা থেকে রক্ষা করো।
তুমি আমার প্রতি রহম করো এবং সব সময় আমার মনের নেক আশা পূর্ণ করো।

০৮/কাবিন নামা

মোঃ মেহেদী হাসান

হায়রে এ কেমন বিয়ে
কি দেখছি এই সমাজে,
বিয়ে নামে চলছে দিন
দিন, কাবিন নামার ব্যবসায়।
কিছু কিছু মানুষ কন্যা সন্তান বিয়ে দিয়ে,
বরের কাছ থেকে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সময় বলে কনের পিতা,
বেশি টাকায় কাবিন না হলে মেয়ে দিবো না বিয়া।
বাধ্য হয়ে করছে বিয়ে
এই সমাজের তরুণ,
কিছু দিনের মধ্যে মেয়ের বাবা বলেন,
তোমার বাড়িতে মেয়ে দিবোনা বলে বারে বারে।
ঝগড়া ফেসাদ লেগে থাকে,
তোমাদের এই সংসারে,
এই বলিয়া মেয়ের বাবা,
আসে পুলিশ নিয়ে।
বরের কাছ থেকে জোর করে,
নিয়ে যায় মেয়েকে কেড়ে।
পুলিশ বেটা বলে তাকে কাবিনের টাকা
না দিলে থাকবি চিরকাল জেলে।

০৯/এসেছে ফেব্রুআরি মাস

মোঃ মেহেদী হাসান
এসেছে ফেব্রুআরি মাস,
এইমাস ভাষা আন্দোলনের মাস।
এই দিনে কত তরুণ – তরুণী  মাতৃভাষা
রক্ষা করতে গিয়ে হারিয়েছিল নিজের জীবন।
১৯৫২ সালে ফেব্রুআরি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মাঠে শুরু হয়েছিল ভাষা আন্দোলন।
তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া সালাম রফিক
জব্বার সহ আরো অনেক যোগ দিয়েছিল ভাষা আন্দোলনে।
তখন কার সময় আরও যোগ দিয়েছিল
আমাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তাদের কারনে আজ আমার মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি।
তাইতো মোরা এই ফেব্রুআরি মাসে তাদের স্মরণ করে থাকি।
ফেব্রুআরি মাসের ২১ তারিখ
সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে তাদের জন্য দোয়া / প্রার্থনা করি।

১০/হে প্রভু দয়াময়

মোঃ মেহেদী হাসান

হে প্রভু দয়াময় তোমার কোন তুলনা নাই,
তোমার সৃষ্টি এই তামাম জাহান।
কী অপরূপ সুন্দর করে সৃষ্টি,
করেছ এই সুন্দর পৃথিবী।
খুটি বিহীন সৃষ্টি করেছ সাত
আসমান সাত জমিন।
পুরো পৃথিবী টা- ই একটি,
গোলাকার কমলা লেবুর মতো।
তোমার সৃষ্টি আরও কতো কিছু,
নাম জানা ও অজানা রয়ে গেছে।
তোমার দেওয়া পবিত্র আল,
কুরআন যাহা পাঠ করতে কতো মধুর।
পবিত্র আল কুরআনের দেওয়া দিক
নির্দশনা মোতাবেগ চলতে চাই।
সেই আল কুরআনের রয়েছে কিভাবে
নিজের জীবন পরিচালনা করতে হয়।
এই রকম সুন্দর কিতাব পেয়ে মোরা,
মানব ও জীন যাতি খুবি গর্বিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD