1. admin@mannanpresstv.com : admin :
লেখক–সুমন আল ফারাভী এর গল্প // অর্ধাঙ্গীনি - মান্নান প্রেস টিভি
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

লেখক–সুমন আল ফারাভী এর গল্প // অর্ধাঙ্গীনি

এম.এ.মান্নান.মান্না
  • Update Time : রবিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩
  • ৪৭ Time View
মারুফ এসে কানে কানে বলে গেলো- দোস্ত বউ বদল হয়ছে । যার সাথে তোর বিয়ে হবার কথা ছিলো সে গতকাল রাতেই পালিয়ে গেছে । এই ঘটনাটা ওনারা সবাই আমাদের থেকে গোপন করে গেছে ।
— তুই কিভাবে বুঝলি যে বউ বদল হয়েছে?
— আন্টি মানে তোর আম্মু একটু আগে আমায় ডেকে বললো। কিন্তু অবাক করা বিষয় কোনটি জানিস! বউ বদল হওয়ায় আন্টি মনে হচ্ছে খুশিই হয়েছে ।
— তুই কি বলছিস কিছুই আমার মাথায় ঢুকছে না। কেউ না জানুক কিন্তু তুই তো জানিস তানিশার সাথে আমার দুই বছরের সম্পর্ক! তুই এসে একটা গুজব ছড়িয়ে যাবি আর সেটা আমি বিশ্বাস করবো!
— আমার কথা হয়তো তোর বিশ্বাস হচ্ছে না, তোর কেন? যখন আমি শুনেছি এরপর আমি নিজের চোখে না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারিনি।
মারুফ এভাবে বলছে যখন তখন সে সত্যি বলছে । কিন্তু বিয়েটা তো তানিশার জোড়াজুড়িতেই করতে রাজি হয়েছিলাম নয়তো আমি আরও কিছু দিন পর বিয়ে করতাম। তাহলে এমনটা করলো কেন!
— তুই একটু আম্মুকে আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবি?
— একটু অপেক্ষা কর আমি আসছি।
টেনশনে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঘামছে । বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে তানিশা বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গেছে! আচ্ছা মারুফ কি আমার সাথে মজা করছে?
একটু পরেই মারুফ আম্মুকে নিয়ে আমার কাছে আসলো।
— আম্মু আমি এসব কি শুনছি? বউ নাকি বদল হয়েছে?
— হ্যাঁ । তোর আব্বু ওনাদের সাথে এটা নিয়ে কথা বলছে আর এই বিষয়টা কেউ জানে না। দুই পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে খুবই সাবধানে বিয়েটা শেষ করতে হবে। লোকে জানাজানি হলে মান সম্মান ধূলোয় মিশে যাবে। তাই কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবে না।
মারুফ ছাড়া কেউ আমাদের সম্পর্কের কথা জানেনা। তাই না পারছি আম্মুকে বলতে আর না পারছি নিজে সহ্য করতে । তানিশা কিভাবে এমনটা করতে পারলো!
বিয়ের সব নিয়মকানুন শেষ । একটু পরেই বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবো। কিন্তু আমি কাকে বিয়ে করলাম?
বাসায় আসতেই নতুন বউকে নিয়ে সবার টানাটানি পড়ে গেলো। কয়েকজন মেয়ে নতুন বউকে নিয়ে আমার রুমে গেলো। আমি বাসার সব অতিথিকে বিদায় দিয়ে মারুফ কে সাথে নিয়ে ছাঁদে আসলাম।
— দোস্ত এখনো সত্যি করে বল তুই মজা করছিলি না তো আমার সাথে?
— আমি কেন শুধু শুধু একটা সিরিয়াস বিষয় নিয়ে তোর সাথে মজা করতে যাবো? তানিশার সাথে শেষ কখন কথা হয়েছে তোর?
— গতকাল সন্ধ্যায়, ও বললো বিয়ের জন্য খুব ব্যাস্ত থাকবে আমি যাতে ওকে আর কল না দেই।।
— আচ্ছা ওসব এখন বাদ দে। যা হবার তা তো হয়ে গেছে। নতুন বউ রুমে একা বসে আছে তোকে হয়তো খোঁজাখুঁজি চলছে । আমরা এসব নিয়ে আগামীকাল না হয় কথা বলবো।
— কিন্তু আমি কাকে বিয়ে করলাম?
— তানিশার কাজিন, আমেরিকা থাকে। ওর বাবা ওকে বিয়ে দেওয়ার জন্য দেশে নিয়ে আসছে
মারুফ এক প্রকার জোর করেই আমায় বাসর ঘরে পাঠিয়ে দিলো।
আমি দরজা খুলে ভিতরে আসতেই নতুন বউ খাট থেকে নেমে এসে আমায় সালাম করলো। আমেরিকায় থাকা একটা মেয়ে এমনটা করবে সেটা কল্পনাতীত ।
সে সালাম করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। আমি তাকে পাশ কাটিয়ে খাটের একপাশে এসে বসলাম।
মেয়েটি এসে আমার পাশে এসে বসলো- আপনাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে? বউ পরিবর্তন হয়েছে জন্য চিন্তা করছেন বুঝি!
আমি পাশ ফিরে মেয়েটির দিকে তাকালাম। এখনো ঘোমটা দিয়ে মুখটা ঢাকা ।
— তানিশার সাথে আমার দুই বছরের সম্পর্ক । কিন্তু সেটা কেউ জানেনা বাসায় সবাই জানে পারিবারিক ভাবেই আমাদের বিয়ে হচ্ছে ।
আমার কথা শুনে মেয়েটি কিছুটা চমকে উঠলো।
— কি! আপনার সাথে তানিশার সম্পর্ক ছিলো? তাহলে ও গতকাল যে ছেলেটার সাথে পালিয়ে গেলো সে কে ছিলো?
— তানিশা একটা ছেলের সাথে পালিয়ে গেছে?
— হ্যাঁ আমি নিজেই ওকে পালাতে সাহায্য করেছি।
চোখ ভিজে আসছে । তার কোনো আবদার অপূর্ণ রাখিনি । তাকে নিজের থেকেও ভালোবেসে শেষ প্রতিদান তাহলে এটাই ছিলো?
হাত দিয়ে মুখটা মুছে ফেললাম ।
— আপনি কান্না করছেন?
— কই না তো।
— তাহলে চোখে পানি কেন?
— এগুলো পানি নয়। তানিশাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো।
— আমার উপর আপনার খুব রাগ হচ্ছে তাই না?
— আপনার উপর রাগ হতে যাবে কেন?
— আমি তানিশাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছি তাই। তাহলে তো আপনি আমায় বউ হিসাবেও মেনে নিবেন না।
— আপনার এমন কেন মনে হলো?
— আপনার এতো বড় ক্ষতি করছি আমি।
— আল্লাহ হয়তো এটাই চেয়েছে ।
— হয়তো ।
— আপনার নাম কি?
— মুমু। সুন্দর না!
— হ্যাঁ । আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন অনেক রাত হয়ে গেছে ।
— আপনার কি ঘুম আসবে?
আমি একবার মুমুর দিকে তাকিয়ে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।
ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখি মুমু এখনো বসে আছে ।
— আপনি এখনো বসে আছেন কেন?
— আমি এই শাড়ি পরে ঘুমাতে পারবো না।
— তাহলে চেঞ্জ করে নেন।
— কিন্তু আমি তো কোনো জামা নিয়ে আসিনি।
— আপনার কোনো সমস্যা না থাকলে আমার টি-শার্ট আর জার্সি প্যান্ট পড়তে পারেন।
আমি টি-শার্ট আর প্যান্ট বের করে দিয়ে বাইরে আসলাম । মোবাইলে একটা ম্যাসেজ আসলো মারুফের নাম্বার থেকে ” বেশি চিন্তা করবি না। আল্লাহ যা করেন অবশ্যই আমাদের ভালোর জন্য আর যে চলে গেছে সে কখনোই তোর যোগ্য ছিলো না। যদি যোগ্য হতো তবে আল্লাহ কখনোই তোর থেকে তাকে আলাদা করতো না “।
হয়তো মারুফ ঠিক বলছে ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD