1. admin@mannanpresstv.com : admin :
লেখিকা: আবরিয়ার জান্নাত এর গল্প // তোমার_আঁচলের_উঠোনে - মান্নান প্রেস টিভি
বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

লেখিকা: আবরিয়ার জান্নাত এর গল্প // তোমার_আঁচলের_উঠোনে

আবরিয়ার জান্নাত
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
  • ৪৩ Time View
শাড়ির আড়ালের পেট আর কোমর দেখিয়ে লোভাতুর দের ইম্প্রেস করতে পারবে, আমাকে নয়। বুঝলে মিস বিভাবরী??”
কথাটা কানে যেতেই বিভাবরীর হাতে থাকা শাড়ির অংশটুকু টুপ করে পড়ে যায়। টলমল করা অবাক চোখ দুটো সামনের মানুষটা কে দেখছে। এই কি সেই ধ্রুব যাকে সে চার-চারটে বছর ধরে ভালোবেসে আসছে, যাকে নিয়ে রূপকথার দেশে পাড়ি জমাতে চাইছে, তার সর্বস্ব দিতে চাইছে…!!
— না মানে, তুমি চোখের পানি মুছতে বারবার শাড়ি ইউজ করছো। যার কারনে তোমার পেট.. এমনকি, পেটের লাল রঙা তিলটাও দেখা যাচ্ছে।
বিভাবরী ঠোঁট কামড়ে ধরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পারছে না। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছে। ধ্রুব বক্স থেকে একটা টিস্যু বের করে বিভাবরীর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
— আমি তাহলে উঠছি। নিজের সিদ্ধান্ত তোমাকে তো জানালাম-ই। এখন বাকিটা তোমার ব্যাপার।
বিভাবরীর হাতে টিসু টা গুঁজে দিয়ে ধ্রুব চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। পেছনে তাকালে সে ঠিক দেখতে পেত, বিভাবরী কতটা মায়াভরা দৃষ্টিতে তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে।
ধ্রুব চলে গেলে বিভাবরী তার দেওয়া টিসুটা দিয়ে নাক পরিষ্কার করে নেয়। মনে মনে তাকে একটা ভয়ঙ্কর কঠিন গালি দিয়ে সেও বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। বাড়ি গিয়ে বিছানায় গা দিতেই ঘুমের দেশে পাড়ি জমায় বিভাবরী। আর ঘুম ভাঙে তার মায়ের ডাকে। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে তার মা মুখে বিশাল বড় হাসি ঝুলিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে ঘুম জ্বড়ানো সুরে বলে,
— কটা বাজে মা??
— তিনটে বাজতে চললো।
বিভাবরী ধড়ফড় করে উঠে বসে। সে ধ্রুবর সাথে দেখা করতে গিয়েছিল দশটার দিকে। সেখান থেকে এসেই ঘুম দিয়েছিল। আর সেই ঘুম ভাঙলো এখন।
তার মা মুচকি হেসে বললেন,
— তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, মা। ধ্রুবর মা ফোন করেছিলেন। তারা রওনা দিয়ে দিয়েছে।
কথাটা বলে তার মা হাতের শাড়িটা বিছানায় রেখে নিজের কাজে চলে যান। বিভাবরী শাড়িটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। একটু আগেই ধ্রুব তাকে স্পষ্ট ভাষায় জানালো, সে বিভাবরী কে বিয়ে করতে পারবে না। শাড়ি পড়া নিয়ে কত নোংরা একটা কথা পর্যন্ত শুনিয়ে দিল। অথচ এই ছেলেটার জন্য ফের তাকে শাড়ি পড়তে হবে।
বিভাবরী ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে তার বাবা তার রুমে। বিভাবরী কে দেখে তিনি কপাল কুঁচকে বললেন,
— মামণি, তুমি আজ উল্টো জামা পড়েছো। তোমার দুই পায়ে দুই ধরনের জুতো। এমনকি, তোমার ডান কানের দুল নেই। তোমায় বড্ড ছন্নছাড়া লাগছে, মামণি। কেন বলো তো??
বাবার মুখে এই ধরনের কথা শুনে বিভাবরী বেশ লজ্জা পেল। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখলো আসলেই তো! সে আজ উল্টো জামা পড়েছে। সে নিচের দিকে চোখ নামিয়ে ফেললো। ভীষণ কান্না পাচ্ছে তার! ধ্রুব নামক ঝড়টা তার জীবনের সব ছন্দ নিয়ে পালিয়েছে। এলোমেলো করে দিয়েছে তার জীবনটা।
বিভাবরীর বাবা আদনান সাহেব তার মাথায় হাত রেখে বললেন,
— ইউ নিড নট টু ওয়ারি, মাই চাইল্ড! ওরা তো শুধু দেখতে আসছে। বিয়ে তো আর হচ্ছে না। জাস্ট চিনিপান হবে। বিয়ে তোমার ইচ্ছে মত সময়েই হবে।
বিভাবরী কিছুক্ষণ ভেবে স্মিত হেসে উত্তর দেয়,
— পরে কেন?? আমি বিয়ে করতে রেডি বাবা। তুমি চাইলে আজই বিয়ে করতে পারবো।
তার বাবা অত্যন্ত খুশমেজাজে চলে যায় তার রুম থেকে। কিছুক্ষণ পর তার মা এসে তাকে শাড়ি পড়ায়। বেগুনি রঙের শাড়িটা কোমরে গুঁজে দিয়ে মুখে হাসির রেখা টেনে তার মা বললেন,
— বুঝলি বিভু, ধ্রুব হলো হিরের টুকরো রে! তার সাথে তুলনা করতে আরেকটা ধ্রুবই লাগবে। তুই খুব সুখে থাকবি মা।
বিভাবরীর বুক ফেটে কান্না আসছে। কিন্তু সে কাঁদবে না। চোখ-মুখ শক্ত করে লম্বা ঘুমটা টেনে তাদের সামনে যায়। ধ্রুবর দিকে তাকাতেই তার বুকের বাম পাশে ধ্বক করে উঠলো। ফর্সা গালে হালকা চাপ দাঁড়ির গম্ভীর ছেলেটা বিষন্ন দৃষ্টিতে কফির মগে সীপ দিচ্ছে। বিভাবরী তার সামনে যেতেই সে বিস্ফোরিত তাকায়। ধ্রুবর মা বিভাবরী কে বসতে বললে সে বসার আগেই ধ্রুব তাকে থামিয়ে দিয়ে বলে,
— বিভাবরী, তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল। তুমি কি একটু…
ধ্রুব কে থামিয়ে দিয়ে তার বাবা বলে উঠলেন,
— কথা বলার অনেক সুযোগ পাবে, ধ্রুব। এখনি কেন??
— ইটস্ আর্জেন্ট!
বলেই ধ্রুব হনহন করে উঠে চলে যায়। বিভাবরী তার পিছু গিয়ে দেখে সে ছাদের কার্নিশ ধরে সিগারেট ফুঁকতে ব্যস্ত। বিভাবরীর মাথাটা ভোঁ ভোঁ করে ঘুরছে। ইদানিং একটু টেনশন বা চিন্তায় থাকলেই এমন হয়। খুব করে মাথা ঘুরে…
ধ্রুব পেছন না ফিরেই সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বললো,
— তোমাকে কি বলেছিলাম আমি??
বিভাবরীর মনে হচ্ছে সে এক্ষুণি ফ্লোরে পড়ে যাবে। মাথা ফাটিয়ে ছাড়বে। ভয়ঙ্কর রক্তারক্তি কান্ড ঘটলেও ঘটতে পারে…
চলবে…
তোমার_আঁচলের_উঠোনে
– আবরিয়ার জান্নাত
তোমার আঁচলের উঠোনে
পর্ব ০২
ধ্রুব খানিকটা ধমকের সুরে বলে,
— কি বললাম শুনতে পাও নি? কান কি কারো কাছে রেখে এসেছো??
বিভাবরী কাঁপা গলায় উত্তর দেয়,
— জ্বি, কি.. বলে..ছিলেন??
ধ্রুব মুখে বিরক্তিকর একটা শব্দ করে ছাদের কার্নিশে আঘাত করে বলে,
— দেখো বিভাবরী, আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। বুঝলে, বুঝলে তুমি?? এক্ষুণি তুমি নিচে গিয়ে সবাই কে বলবে কথাটা..
— আমার তো কোনো সমস্যা নেই আপনাকে বিয়ে করতে। সমস্যা যেহেতু আপনার, তাই আপনিই বলেন না!
— বিভাবরী, তুমি কি চাও আমি তোমার গায়ে হাত তুলি? আমার রাগ কিন্তু এবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
দুই দুই বারের ভয়ঙ্কর রিজেকশনে বিভাবরীর মনে জেদ চেপে গেল। ছেলেটা কি জানে, বিভাবরী যেদিন একটু সেজেগুজে বাইরে যায়, সেদিন কতগুলো প্রপোজ তাকে রিজেক্ট করতে হয়? কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গুলোতে তার চোখের দিকে তাকিয়েই কতগুলো ছেলে ধড়াম করে তার প্রেমে পড়ে যায়?? আর সেই বিভাবরীকে ছেলেটা ফিরিয়ে দিচ্ছে…হাহ্! বিভাবরী দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করে শক্ত মুখে বলে দেয়,
— আপনি আমার সামনে থেকে যান তো। একদম সহ্য হচ্ছে না আপনাকে আমার।
ধ্রুব শান্ত গলায় জবাব দেয়,
— সিগারেট টা শেষ করে নেই। তারপর যাবো।
ধ্রুব অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই সিগারেট শেষ করলো। এতগুলো কথার মাঝে সে একবারও পেছন ফিরে বিভাবরীর দিকে তাকায়নি। শুধু যাওয়ার আগে নরম সুরে বললো,
— বিভাবরী, শুধু রূপ থাকলেই হয় না। পড়াশোনাও জানতে হয়। বিবাগী বাতাসে না উড়ে বাস্তবতা বুঝার চেষ্টা করো।
বিভাবরী প্রত্যুত্তরে কিছুই বলেনি। নিজেকে শক্ত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল।
সেদিন ধ্রুব চলে গেলে বিভাবরী আর তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে না। ধ্রুবকে নিয়ে রূপকথার বাড়িতে পাড়ি জমায় না। তাকে ভুলার জন্য পড়াশোনায় মন দেয় সে। তার অনিহার দরুন বিয়ে কথাবার্তাও বন্ধ করে দেয় তার বাবা। তবে তাদের গল্প সেখানেই আটকে থাকেনি…
ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পর দীর্ঘ ছুটিতে বিভাবরীর জন্মদিন চলে আসে। বন্ধু দের সাথে সময় কাটাতে রেস্টুরেন্টে ট্রিট দিতে গিয়ে সেখানেই ধ্রুবর দেখা মিলে। আগের মতোই বিষন্ন দৃষ্টিতে সে কফির মগে সীপ দিচ্ছে। কিছুই বদলায়নি তার। বিভাবরী দেখেও না দেখার মতো করে চলে যেতে চাইতেই পরিচিত ডাকে থমকে যায় সে। ছেলেটা তাকে এমন ভাবে ডাকলে সে গোটা দুনিয়া জলাঞ্জলি দিয়ে দিতে পারে। তার মুখে নিজের নাম শুনেই বিভাবরী নিজের নামকে ভালোবেসেছিল। ধ্রুব গম্ভীর গলায় ডাকলো,
— বিভাবরী, শুনতে পাচ্ছো তুমি??
— জ্বি..
— হটাৎ এখানে এলে যে! সবাই কে নাকি ট্রিটও দিচ্ছো। আমাকে দিবে না??
— হু! আপনার বিল আমি দিয়ে দিবো।
কথাটা শুনে ধ্রুব বিভাবরীর সামনে দাঁড়ায়। তাকে দেখে মনে হলো সে রেগে আছে। বিভাবরীর ধারণা সত্যি করে দিয়ে ধ্রুব ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,
— তোমার কি আমাকে ছ্যাঁচরা মনে হয়??
— না..না! মানে আমি..
বিভাবরীর কথা আটকে গেছে। এ্যাজ ইউজ্যুয়াল তার মাথা ঘুরতে শুরু করলো। ধ্রুব তার হাত টা যে টেনে ধরেছে, সে কি করে ঠিক থাকবে! ধ্রুব তাকে টেনে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে নিজেই খাবার অর্ডার দেয়। বিভাবরী নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে হচ্ছে সে স্নপ্ন দেখছে…
তার ধ্যান ভাঙে নিজের পায়ের উপর অন্য কারোর পায়ের অস্তিত্বে। ধ্রুব তার পায়ের উপর নিজের পা রেখে বসে আসে। ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে দেখে সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই খাবার খাচ্ছে। বিভাবরী বুঝতে পারছে না ধ্রুব ইচ্ছে করে করছে নাকি ভুলবশত।
— বিভাবরী, খাচ্ছো না কেন তুমি??
— খা..চ্ছি.. তো..!!
ধ্রুব বেশ আয়েশ করেই তার খাবার শেষ করলো। কিন্তু বিভাবরী ছুঁয়ে দেখার শক্তিও পায়নি। খাওয়া শেষে ধ্রুব বললো,
— তোমাকে কি গিফট দেই, বলো তো? আমি তো আর জানতাম না তুমি আমাকে এভাবে ট্রিট দেবে।
বিভাবরী ঠোঁটের কোণে হাসি এনে মনে মনে বললো,
— কিচ্ছু না। কিচ্ছু দিতে হবে না আপনাকে। আপনি মিষ্টি করে আমাকে একবার উইশ করেন তো। এতেই আমার চলবে।
ধ্রুব টিসুতে হাত মুছে তার প্যান্টের পকেটে হাত দিতেই বিভাবরী চমকে উঠে। দ্রুত বললো,
— প্লিজ প্লিজ! টাকা বের করবেন না। আমি নিতে পারবো না।
— আমি ততটাও নিচু মানসিকতার নই, বিভাবরী।
ধ্রুব পকেট থেকে সিগারেটের পেকেট বের করে বিভাবরীর দিকে বাড়িয়ে দেয়।
তারপর লম্বা ঢেকুর তুলে বলে,
— নাও বিভাবরী, তোমার বার্থডে গিফট!
বিভাবরী হতবুদ্ধি হয়ে তাকায় ধ্রুবর দিকে। ছেলেটা কি সত্যি সত্যিই তাকে সিগারেট গিফট করছে?? বিভাবরী কিছু বলতে যাবে তখনি একটা মেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। ধ্রুবর দিকে তাকিয়ে হেসে বলে,
— চলো ধ্রুব, যাওয়া যাক। আ’ম ডান!
ধ্রুবও প্রত্যুত্তরে মুচকি হেসে সিগারেট প্যাক টা তার হাতে দিয়ে বলে,
— আসছি বিভাবরী! খুব ভালো ট্রিট করেছো। থ্যাংক্স ফর দেট!
ধ্রুব এক মুহুর্তও দেরি না করে মেয়েটির সাথে চলে যায়। আর বিভাবরী হা করে তাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। না চাওয়া সত্ত্বেও গড়গড় করে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। ছেলেটা এত নিষ্ঠুর কেন?? বিভাবরী সিগারেটের পেকেটটা মুচড়ে ধরে হেঁচকি তুলে ফেলেছে…
চলবে…

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2022 mannanpresstv.com
Theme Customized BY WooHostBD