নিজস্ব প্রতিবেদক, লাকসাম:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বাইপাস এলাকার পশ্চিম হাউজিংয়ে অবস্থিত ‘আল বুখারী মাদ্রাসা’র এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মাদ্রাসা ছাত্রটি সম্প্রতি তার পরিবারের সদস্যদের কাছে এই নিপীড়নের বিষয়টি জানায়। পরে গত মঙ্গলবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয় এবং ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষক আক্তার হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে শিক্ষকের এমন অপকর্মের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উপস্থিত স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা বারবার ঘটতে থাকলে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পর পরই উত্তেজিত জনতার হাত থেকে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আক্তার হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দেন।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।